Published : 08 Jun 2026, 07:30 PM
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার একটি বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুনে দগ্ধ বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
ঘটনার পাঁচ দিনেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান এবং শেরে বাংলা সড়ক অবরোধ করেন বলে জানান একই থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা।
নিহত আফাজ উদ্দিন (৬০) উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার তিন দিন পর শনিবার ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি মারা যান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কাচারীপাড়া এলাকা থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শতাধিক মানুষ লাশ নিয়ে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশ করেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান এবং শেরে বাংলা সড়ক অবরোধ করেন।
এতে সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয়পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং থানা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এজাহার নথিভুক্ত করলেও বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। এ সময় তারা ওসির অপসারণ দাবি করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্বজনরা জানান, বুধবার ভোর ৪টার দিকে আফাজ উদ্দিনের বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেয় একদল লোক। ঘটনার সময় নুর হোসেন না থাকলেও বাড়িতে থাকা তার আফাজ উদ্দিন আগুনে দগ্ধ হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে বিকালে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিকের অভিযোগ, “প্রায় পাঁচ মাস আগে গাছের ঝরা পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চলের সঙ্গে আমাদের বিরোধ হয়। সেই সময় চঞ্চল আমার বড় ভাই নুর হোসেনকে মারধর করেন এবং মোবাইল ফোন ভেঙে দেন।
“এর মধ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেয়। তবে ভাই সেখানে না থাকলেও বাবা আগুনে দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা মারা যান।”
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পাঁচ দিনেও মামলা নথিভুক্ত হয়নি দাবি করে আবু বক্কর বলেন,
“প্রতিপক্ষের লোকজন ছয় লাখ টাকা ঘটনাটি মীমাংসার জন্য চাপ দেয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা লাশ নিয়ে থানায় এসেছি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস সালাম চঞ্চল বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
“আমরা আগুন দিয়েছি, এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই এবং এ ঘটনায় আমার পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে”, বলেন তিনি।
ওসি রেজাউল করিম বলেন, “ঘটনার পরপর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে আসেননি। পরে এজাহার দিলে তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়।”
এর মধ্যে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে; দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।