১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যমুনায় পানি কমায় ভাঙছে পাড়, আতঙ্কে বাড়িঘর সরাচ্ছেন বাসিন্দারা

ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টার কথা জানিয়েছে বগুড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 08:13 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। 

বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়িতে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৬৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর আগে ১২ জুলাই এ বাঁধের অগ্রভাগের ৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে দ্রুত ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টার কথা জানিয়েছেন বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক।

বাসিন্দারা জানান, এবার নদী ভাঙন ধেয়ে আসছে জনবসতির দিকে। বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় যমুনা পাড়ের পরিবারগুলো ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা, স্মৃতি আর স্বপ্ন রেখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, চার দিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে থাকায় যমুনা নদীতে প্রবল স্রোত বইছে। 

এতে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের টানা স্রোত ও নদীর তীব্র ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের।

দুই মাস ধরে নদীর পাড় ধসে পড়ার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বাসিন্দারা। নদী ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ বাঁশ-কাঠ নামাচ্ছেন, আবার কেউ ট্রলি কিংবা ভ্যানে করে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। 

শহড়াবাড়ী গ্রামের আলফাজ আলী বলেন, প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হয় তাদের। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না।

“বর্ষা এলেই নতুন করে শুরু হয় আতঙ্ক, আর নদী কেড়ে নেয় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও জীবিকার শেষ সম্বল। নদীপাড়ের অনেক পরিবারের এখন একমাত্র চিন্তা-মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই”, বলেন তিনি।

আলফাজ আলী বলেন, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ বাঁধের ওপর কিংবা খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যে উঠানে শিশুদের হাসি-কান্না, যে আঙিনায় ছিল জীবনের অসংখ্য স্মৃতি, সেটিই এখন নদীর গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।

একই গতিতে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়বে। আর এতে দুর্ভোগে পড়বেন হাজারো মানুষ। 

একটি ঘর ভেঙে গেলে শুধু ইট, কাঠ কিংবা টিন হারায় না, হারিয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার অবলম্বন। যমুনার অব্যাহত ভাঙন যেন আর কোনও পরিবারকে নিঃস্ব না করে এটাই এখন নদীপাড়ের মানুষের আকুতি।