হলফনামা: সুনামগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি
রফিক চৌধুরী দশম সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট করেছিলেন; এবার তার প্রতীক হাতপাখা।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সব প্রার্থী ও তাদের স্ত্রীর সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্বাচনি হলফনামায় দেখানো হয়েছে। তাতে স্বর্ণ, ব্যাংক আমানত, বাড়ি, ফ্ল্যাট, বার্ষিক আয় বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে সম্পদে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. রফিক চৌধুরীর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম। তার ২৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি এবং পাঁচ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। যদিও রফিক চৌধুরী হলফনামায় নিজের সাড়ে ১২ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন।
হোসনে আরার নামে রাজধানীর অভিজাত এলাকা নিকুঞ্জে একটি বাড়ি, ঢাকার লেকসিটিতে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। রফিক চৌধুরীর নিজেরও ঢাকা দক্ষিণ খান ও টঙ্গিতে যৌথ প্লট রয়েছে। তার স্ত্রীর ব্যাংকে আমানত ও এফডিআরেও বিপুল টাকা রয়েছে।
তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসন। এই আসনে বিএনপি দুজনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তারা হলেন- কামরুজ্জামান কামরুল এবং আনিসুল হক।
হলফনামায় কামরুজ্জামান কামরুল কৃষি থেকে নিজের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা দেখিয়েছেন। বাড়ি ভাড়া বা অন্যান্য খাত থেকে তার আয় ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রীসহ তার তার নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকা। নিজের নামে স্বর্ণ নেই। তবে স্ত্রী হেলী খানমের ২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে তার ২০ একর কৃষি জমি রয়েছে। তার হাতে কোনও নগদ টাকা নেই। ব্যাংকে আমানতও অনেক কম।
এই আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী আনিসুল হকের বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ৪৯ হাজার ৫০০। ব্যবসা থেকে আয় এক কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৯ টাকা। স্ত্রী রুখসানা আক্তারসহ তার নির্ভরশীলের বার্ষিক আয় সাত লাখ পাঁচ হাজার ১২১ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ আছে এক লাখ টাকা, স্ত্রীর কাছে নগদ আছে ১১ লাখ নয় হাজার ৩৫৫ টাকা।
আনিসুল হকের ব্যাংকে আমানত আছে ৫৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬২ টাকা। স্ত্রীর আমানত ৬৫ হাজার ৮৭৯ টাকা। নিজের নামে সঞ্চয়পত্র না থাকলেও তার স্ত্রীর নামে আছে ২৩ লাখ ছয় হাজার ৭৯ টাকার আমানত। নিজের স্বর্ণ আছে ১১ ভরি, স্ত্রীর আছে ২০ ভরি।
আনিসুল হকের তিন কোটি ৬৫ লাখ দুই হাজার ১৪৯ টাকার ভূমিসহ মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৪ টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ৩১৩ টাকা। প্রার্থীর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য চার কোটি ৯৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০ টাকা।
রফিক চৌধুরী এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রফিক চৌধুরীর কৃষি থেকে বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের কৃষি থেকে আয় ৭২ হাজার টাকা। প্রার্থী বাড়ি ভাড়া বা অন্যান্য ভাড়া পান ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৭২০ টাকা আর স্ত্রী বাড়ি বা অন্যান্য ভাড়া পান ১০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে প্রার্থীর বছরে আয় আট হাজার ৬৮২ টাকা আর স্ত্রীর ব্যবসা থেকে বছরে আয় চার লাখ ১০ হাজার ৭৭১ টাকা।
স্ত্রীর পেশা থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩ টাকা। রফিক চৌধুরীর নিজের নগদ অর্থ আছে এক লাখ ৬৪ হাজার ৬২১ টাকা আর স্ত্রীর হাতে নগদ অর্থ আছে ৮১ লাখ ১৪ হাজার ৬৬২ টাক। ব্যাংকে আমানত আছে দুই লাখ ৪৭ হাজার ২৫ টাকা। স্ত্রীর আমানত আছে ৫৮ লাখ ১৩ হাজার ২৮৫ টাকা। নিজের বন্ড, ঋণপত্র শেয়ার আছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীরও সমান অর্থ আছে।
রফিক চৌধুরীর নিজের কোনও সঞ্চয়পত্র না থাকলেও তার স্ত্রীর সঞ্চয়পত্র আছে ৫০ লাখ টাকার। নিজের ২৫ লাখ ও স্ত্রীর ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের পরিবহন আছে। প্রার্থীর ২০ ভরি উপহারের স্বর্ণও আছে।
হলফনামায় রফিক চৌধুরী বলেছেন, তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা। নিজের তিন কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং স্ত্রীর পাঁচ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদের বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৮১ হাজার ৯৫১ টাকা। অন্যান্য পেশা থেকে আয় ১১ হাহার ১১০ টাকা। তার নির্ভরশীলদের আয় চার লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৩ টাকা। প্রার্থীর নগদ অর্থ আছে তিন লাখ ১৫ হাজার ৫৯৯ টাকা। নির্ভরশীলের আছে পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ২৯১ টাকা। তার ব্যাংকে আমানত আছে ছয় লাখ ৫৭ হাজার ৮৩৫ টাকা। নির্ভরশীলের আছে এক লাখ ৮৫ হাজার ২৬২ টাক। প্রার্থীর সঞ্চয়পত্র আছে পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৭ টাকার। স্ত্রীর সঞ্চয়পত্র আছে আট লাখ ৩৭ হাজার ৪৭১ টাকা। নিজের আছে এক লাখ টাকার স্বর্ণ এবং স্ত্রী হোমায়রা শওকত জাহানের আছে তিন লাখ টাকার স্বর্ণ।
