Published : 06 Sep 2025, 09:48 PM
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় একই স্থানে মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্রসমাজের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাসাইল থানার ওসি জালাল উদ্দিন শনিবার বলেন, “রোববার বিকাল ৩টায় উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে একই সময়ে কাদেরিয়া বাহিনীর উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ এবং ছাত্রসমাজের ব্যানারে ছাত্র সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।”
কাউকেই অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ জানায়, ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে মুক্তিযুদ্ধের কোম্পানি কমান্ডার কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বাসাইল থানায়ও অনুলিপি দেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
এদিকে, ৫ সেপ্টেম্বর ছাত্রসমাজের ব্যানারে একই স্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন রনি মিয়া। তবে রনি মিয়ার মোবাইল নম্বর ও পুরো ঠিকানা আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
দুটি সমাবেশের আয়োজকরা পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ছাত্রসমাজের পক্ষে আবেদনকারী রনি মিয়া বলেন, “সারাদেশে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুর্নবাসন করার চেষ্টা চলছে। কেউ যাতে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুর্নবাসন করতে না পারে এজন্য আমরা ছাত্রসমাজ সমাবেশের ডাক দিয়েছি। আমাদের সমাবেশ খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হবে। যত বাধা বিপত্তি আসুক আমরা নির্ধারিত স্থানেই সমাবেশ করবো। অনুষ্ঠানে ছাত্রসমাজের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।”
মুক্তিযুদ্ধের কোম্পানি কমান্ডার কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল বলেন, “অনুমতি চেয়ে আমরা আগে আবেদন করেছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠান বানচালের জন্য তারা একইস্থানে সমাবেশ ডেকেছে। তারা আমাদের অনুষ্ঠানের আগে বা পরদিন সমাবেশ করতে পারতেন। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো প্রতিহিংসা নেই। এরই মধ্যে আমরা অতিথিদের দাওয়াত দিয়েছি।”
বাসাইল থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, “যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা কাউকে শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান করতে দেব না। এ ছাড়া সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে শহীদ মিনারে প্রবেশ করতেও দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।”
বাসাইলের ইউএনও মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, “উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে দুটি আবেদন জমা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”