Published : 03 Jan 2025, 10:08 PM
অতি জরুরি সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সরকারকে নির্বাচিত দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, “আপনার দেরি না করে অতি জরুরি সংস্কার কাজ শেষ করে একটা নির্বাচন দিয়ে আপনাদের যার যার জায়গায় ফিরে যান। এই নির্বাচনে জনগণ যাকে ভালোবাসবে, যার উপরে আস্থা রাখতে পারবে- তাদেরকে দেশের দায়িত্ব দিলে তারা দেশের মানুষকে সম্মান করবে।”
শুক্রবার দুপুরে নাটোরের নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে এক কর্মী সমাবেশে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, “নির্বাচন তার জন্য যারা মানুষকে সম্মান করবে। নির্বাচন তার জন্য যারা দেশের মানুষকে ভালোবাসে। যাদের কাছে দেশের প্রতি ইঞ্চি আমানত। এ বিশ্বাস-আস্থা যাদের নেই, নির্বাচন তাদের কপালে নেই।
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন “ফ্যাসিবাদ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অবৈভাবে তিন তিনটি নির্বাচনে তাণ্ডব চালিয়েছে; তা দেশের মানুষ দেখেছে। যারা নির্বাচন বিশ্বাস করে না, তাদের আবার কিসের নির্বাচন।”
বাজার মূল্য মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “এখনও আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেট বিভিন্ন জায়গায় বসে আছে। তবে পুরনো সিন্ডিকেট বলে ভাই, আমাদের জমিদারী এখন নতুন জমিদারের হাতে চলে গেছে, আমাদের হাতে আর এটা নাই। আমরা নতুন পুরাতন কোনো সিন্ডিকেট দেখতে চাই না।”
তিনি বলেন, “মানুষের উপরে জুলুম বন্ধ করতেই হবে। সরকার উদ্যোগ নিলে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে সাহায্য করবো। আমরা এমন একটা দেশ চাই যেখানে আর কোনো পক্ষ বিপক্ষ, বিবাদ থাকবে না। টুকরা টুকরা জাতি চাই না, আমরা চাই ঐক্যবদ্ধ জাতি।
“এদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যারাই বসবাস করবেন সবাই এদেশের গর্বিত নাগরিক। সকলের মর্যাদা এবং অধিকার সমান। মেজরিটি মাইনোরিটি শব্দই শুনতে চাই না, আমরা সবাই এক। নারী পুরুষ নির্বিশেষ সবাই দেশটাকে গড়ে তুলব “
নাটোর জেলা আমীর অধ্যাপক মীর নূরুল ইসলাম সভাপতিত্বে কর্মী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নাটোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক সুধী সমাবেশে ব্ক্তব্য দেন।
সেখানে তিনি বলেন, “যে জাতি বিভক্ত হয়, তার মাথায় সবাই কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার চেষ্টা করে। আমাদের এই জাতির মাথায় ৫৩ বছর কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া হয়েছে। আমাদের তরুণ সমাজ, জনগণ জেগে উঠেছে, আমরা আর চাই না কেউ আমাদের মাথার উপরে কাঁঠাল ভেঙে খাক।”