ময়মনসিংহের সেই বহিষ্কৃত নেতার নামে এবার মামলা করল বিএনপি
জুট ব্যবসার কাজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের পাইয়ে দিতে সুপারিশের অভিযোগ উঠার পর রোববার দল থেকে বহিষ্কৃত হন ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সদ্য বহিষ্কৃত ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বাদী হয়ে মামলার এজাহার দেন বলে ভালুকা মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান।
ওসি বলেন, এজাহারে আসামি হিসেবে বাচ্চু ছাড়াও অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের নাম রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাদী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কতিপয় ব্যক্তি বিএনপির নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে সবাইকে বারবার সতর্ক করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।
“তারেক রহমান এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে এখন শুধু সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতাকর্মীদের ১৫ বছরের আত্মত্যাগ এবং কমিটমেন্ট কতিপয় ব্যক্তির অপকর্মের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। তারেক রহমানসহ দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছেন।”
ভালুকা উপজেলার একটি কোম্পানির জুট ব্যবসার কাজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের পাইয়ে দিতে সুপারিশ করার অভিযোগ উঠে ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে।
তার পরই রোববার মধ্যরাতে বিএনপির ফেইসবুক পেইজে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।
সোমবার তার বিরুদ্ধে মামলা করল দল।
গত ২৭ অগাস্ট ভালুকা উপজেলার কাঠালী এলাকায় এলজি-বাটারফ্লাই মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি আবেদনপত্রে সুপারিশ করেন ফখরুদ্দিন আহমেদ। ওই আবেদনে প্রতিষ্ঠানের সাপ্লাই চেইন, পরিবহণ এবং ওয়েস্ট ডিজপোজাল কাজ ‘ভালুকা এন্টারপ্রাইজকে’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
ওই কোম্পানিকে দেওয়া সুপারিশে বিএনপি নেতা ফখরুদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, ‘উল্লেখিত (ভালুকা এন্টারপ্রাইজ) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যবসা পরিচালনার কার্যাদেশ প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হইল।’
তবে ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, “৫ অগাস্টের পর একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন আমার সঙ্গে কথা বললে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি আবেদনপত্রে সুপারিশ করেছি।
“এ ঘটনায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। তবে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো পাইনি।”
আরও পড়ুন:
