Published : 27 Mar 2026, 03:33 PM
ফরিদপুরের সালথায় ‘বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে’ পাটের গোডাউনের ওপর পড়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
এতে অন্তত ৩৫০ মণ পাট ও ৩০ মণ মসুরির ডালসহ তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সালথা বাজারের পুরুরা সড়কের পাশে লাগা এই আগুন ফায়ার সার্ভিস আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে বলে সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব অফিসার মো. আব্দুল জলিল জানিয়েছেন।
আগুনে কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার পাটের গোডাউনের টিনশেড চালের ওপর দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুতের তার টানানো ছিল। সকালে গোডাউনের টিনের চালের ওপর ওই বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন আশপাশে থাকা নজরুল ও মাসুদের আরো দুটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।

“খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে আমার ৩৫০ মণ পাট ও ৩০ মণ মসুরি ডাল পুড়ে যায়। এতে আমার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।”
সালথা বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন জায়গায় দোকান ও মার্কেটের ওপর এবং আশপাশ দিয়ে ‘অপরিকল্পিতভাবে’ বিদ্যুতের তার টানা হয়েছে। এ কারণে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটছে।
তবে সালথা বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. রেজাউল করিমের ভাষ্য, “আগুন লাগলেই সাধারণ মানুষ আমাদের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে আগুন কিভাবে লেগেছে, তা সঠিকভাবে কেউ জানে না।
“এমনও হতে পারে, গোডাউনের ভিতর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং পরে ওই তার ছিঁড়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে পরিদর্শন করে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন বলেন, “যেহেতু বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। তাই আমরা বিদুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যুতের লাইনগুলো যাতে সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়, সে ব্যাপারে কাজ করবো।
“ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সালথা উপজেলা প্রশাসন সবসময় সবার পাশে থাকবে।”