Published : 11 Feb 2025, 03:38 PM
সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় চলতি সপ্তাহে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাসের কথা জানিয়ে বোরো ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।তার আগেই ধানকাটা হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাওরের ৯৯ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। শুক্রবার শতভাগ ধান কাটা শেষ হওয়ার কথা।
তবে হাওর এলাকার বাইরে আবাদ করা ইরিসহ যেসব প্রজাতির ধান লাগানো হয়েছে, তা কাটতে আরও ১৫-২০ দিন সময় লাগবে।
এদিকে আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় সহজে ধানকাটা, মাড়াই ও গোলাজাত করতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হাওরের কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল; এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
আর হাওরের বাইরে প্রায় ৫৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। এ বছর হাওর থেকে প্রায় ৪ হাজার ১১০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “বৃষ্টি হয়নি; আজ রৌদ্রজ্জ্বল দিন। তবে পাহাড়ি সুরমা নদীতে ৪৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
তিনি বলেন, “পানি বাড়লেও হাওর নিয়ে কোন দুশ্চিন্তা নাই। কারণ হাওরের ধান বৃহস্পতিবারই ৯৯ ভাগ কাটা হয়েছে।”
শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, “বাম্পার ফলন আর অনুকূল আবহাওয়ায় ধান কেটে তুলেছেন কৃষক। কৃষক এখন দুশ্চিন্তামুক্ত। আমাদের হাওরে ধান কাটার আর অবশিষ্ট জমি নেই। এখন বন্যা এলেও ফসল হারানোর দুশ্চিন্তা নেই।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, “বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাওরের ৯৯ ভাগ ধানকাটা শেষ। আজ শতভাগ ধানকাটা শেষ হয়ে যাবে। আর হাওরের বাইরে যে অল্প জমি রয়েছে তা শেষ হয়ে যাবে ১৫-২০ দিনের মধ্যে।
“তবে হাওরের বাইরের জমি বন্যা ঝুঁকিমুক্ত। এবার হাওরে বাম্পার ফলনে কৃষক খুশি।”