Published : 20 Aug 2026, 07:57 PM
স্বামী তৌফীক নাওয়াজকে শেষ বিদায় জানিয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি।
১২ ঘণ্টা প্যারোলে মুক্তির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
এদিন সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে তাকে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর পুলিশি পাহারায় ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সকাল ৯টায় তিনি কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান।
সেখান থেকে গুলশানের আজাদ মসজিদের জানাজা এবং রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এই মন্ত্রী।
দীপু মনির আইনজীবী ফয়সাল ইসলাম বলেন, “আমরা চার দিনের প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। জেলা প্রশাসক আমাদের ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেন।”
তিনি বলেন, দীপু মনির কারাবন্দির দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এর আগে তার স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর এবার প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পেলেন তিনি।
কারাগার থেকে পুলিশ পাহারায় দীপু মনিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্যারোলের পুরো সময় তিনি পুলিশ পাহারায় ছিলেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৌফিক নেওয়াজের মৃতদেহ সকালে ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে দীপু মনি স্বামীর লাশ দেখেন। এরপর মৃতদেহ নেওয়া হয় গুলশান আজাদ মসজিদে।
বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে তৌফিক নেওয়াজের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা ও দোয়া শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
প্যারোলে মুক্তির আইনি ভিত্তি সম্পর্কে ফয়সাল ইসলাম বলেন, কারা আইন ও সংশ্লিষ্ট কারাবিধিতে দিনের আলোতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী তারা ১২ ঘণ্টার প্যারোল পান দীপু মনি।
তিনি বলেন, “আমরা আইনিভাবেই এই প্যারোল পেয়েছি। সরকার চাইলে এর চেয়ে বেশি সময়ের জন্যও প্যারোলে মুক্তি দিতে পারত।”
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি চব্বিশের আন্দোলনের পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে আটক আছেন।
তার স্বামী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল) মারা যান।
৭৬ বছর বছর বয়সি তৌফীক নাওয়াজ দীর্ঘ দিন ধরে কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাসহ তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা আপেল খকশি।
পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ ধ্রুপদি সংগীতেরও চর্চা করতেন। ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। সর্বশেষ গত ২৭ মে হুইল চেয়ারে করে কারাবন্দি স্ত্রীকে দেখতে তাকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বজনেরা।
অপরদিকে দীপু মনি হাই কোর্টে বেশ কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও আরও অনেক মামলায় তার নাম থাকায় তিনি মুক্তি পাননি। ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা রয়েছে।
২৭ মে তৌফীক নাওয়াজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে দীপু মনিকে সাত দিন প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তাদের মেয়ে তানি দীপাবলী নাওয়াজ। তবে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসন তখন ওই আবেদনে সাড়া দেয়নি।
স্বামীর মৃত্যু: প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ঢাকার বাসায় দীপু মনি
স্বামীর মৃত্যু: ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি