Published : 24 Feb 2026, 05:00 PM
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে যে বাড়িটিতে চারজন দগ্ধ হয়েছে, সেখানকার সংযোগটি অবৈধ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার বলদাখাল এলাকার পশ্চিম মাইজপাড়ার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় গ্যাসের বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের প্রকৌশলী অম্লান কুমার দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, “ওই বাড়িতে কোনো বৈধ সংযোগ ছিল না। তারা অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করতেন। কিছুদিন আগে সেই অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে হয়ত তারা আবার নিজস্ব কোনো পদ্ধতিতে এই লাইন ব্যবহার করেছে। আর এ কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
ঘটনার পর ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, রান্নাঘরে গ্যাসের সিলিন্ডার অক্ষত রয়েছে। গ্যাসের রাইজার না থাকলেও বাড়ির এক কোণায় গিয়ে অবৈধ গ্যাসের সংযোগের দুটি পাইপলাইন দেখা যায়।

দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন সেখানে এসে ভিড় করেন। সেখানকার কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা হলে তারাও দুটি পাইপলাইন দেখিয়ে ধারণা দেন, হয়ত বাড়ির মালিক ওই গ্যাস লাইন থেকে অবৈধভাবেই সংযোগ নিচ্ছিলেন। যার লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ হয়েছে।
তবে দুর্ঘটনার শিকার তিনতলা ওই ভবনের মালিক পিয়ার আহমেদ অবৈধ সংযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “কেউ হয়ত শত্রুতা করে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।”
যদিও তিনি স্বীকার করেন, আগে চোরাই সংযোগ তিনি ব্যবহার করতেন।
স্থানীয়রা জানান, সেহরির পর এলাকার মোটামুটি নিরব ছিল। অনেকেই ঘুমে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। দৌড়ে এসে দেখেন বাড়িটির নিচতলা বিধ্বস্ত হয়েছে এবং চারজন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে বাড়িটির নিচতলার খালি একটি ইউনিট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাড়ির নিচতলার দেয়াল, দরজা, জানালা উড়ে যায়। পরে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দগ্ধরা হলেন- মনোয়ারা (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) ও হুররাম (২)।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, সকাল ৬টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় নারী-শিশুসহ একই পরিবারে চারজনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।
তাদের মধ্যে মনোয়ারা বেগমের শরীরের দুই শতাংশ, জিল হকের শরীরের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রার শরীরের ৬৫ শতাংশ এবং শিশু হুররামের শরীরের ছয় শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, জিল হক ও হুমায়রার শরীরে দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তারা আশঙ্কাজনক।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পরিদর্শক এরশাদ হুসাইন বলেন, “লাইনের গ্যাস লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি। চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। আমরা পৌঁছানোর আগেই তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ওই বাসায় গ্যাসের অক্ষত সিলিন্ডারও পাওয়া গেছে। সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়নি।”
আরও পড়ুন: