মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ছোট ছেলেকে নিয়ে বড় ছেলের অপেক্ষায় ছিলেন বাবা
“বাসায় ফিরে একসঙ্গে দুপুরের খাওয়ার কথা ছিল, তানভীরের পছন্দের রান্নাও হয়েছিল,” বলেন মা লিপি বেগম।
মাইলস্টোনের অষ্টম শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের ছাত্র তানভীরের ছুটির অপেক্ষায় ছিলেন বাবা রুবেল মিয়া, সঙ্গে ছিল ছোটো ছেলে একই প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণির তাশরীফ।
দুই ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফিরে একসঙ্গে দুপুরে খাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ স্কুল প্রাঙ্গণে জঙ্গি বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনায় সেটি আর হয়ে ওঠেনি। মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় বড় ছেলেকে চিরতরে হারিয়েছেন তিনি।
উত্তরায় ভাড়া বাসায় থাকেন রুবেল। দুই ছেলেকেই ভর্তি করিয়েছিলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে।
সোমবার দুপুরে ছোট ছেলে তাশরীফের আগেই ক্লাস শেষ হয়েছিল। তাই তাকে নিয়ে তানভীরের অপেক্ষায় ছিলেন বাবা। কিন্তু সেই অপেক্ষা যে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন ডেকে আনবে, সেটি ভেবেই আহাজারি থামছে না তার।
তানভীরের মৃত্যুর পর মঙ্গলবার তাকে নেওয়া হয় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ওয়ার্শি ইউনিয়নের নগরভাত গ্রামে। সেখানে জানাজার পর তাকে দাফন করা হয়। স্বজনরা এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মা লিপি বেগম বলেন, প্রতিদিনের মত সোমবারও বাবা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে স্কুলে যায় তানভীর। বাসায় ফিরে সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাওয়ার কথা ছিল, সেজন্য তানভীরের পছন্দের খাবারও রান্না হয়েছিল। কিন্তু খাওয়া আর হল না।
মির্জাপুরের ইউএনও এবি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, “হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তানভীরের পরিবারের পাশে থাকব।”
সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়ির ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে আছড়ে পড়ে বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমান। বিধ্বস্তের পরই আগুন ধরে যাওয়ায় দগ্ধ হয়ে এখন পর্যন্ত ২৮ জনের প্রাণ গেছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। আহত ৬৮ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিমান দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সরকার ফারহানা কবীর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হতাহতের এ তথ্য দিয়েছেন।
চিকিৎসাধীনদের মধ্যে মধ্যে ১০ জনকে 'শঙ্কামুক্ত' বলে মনে করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান মঙ্গলবার বলেন, ৩০ জনের অবস্থা এখনও 'অস্পষ্ট', তাদের ১০ জনের অবস্থা 'আশঙ্কাজনক'। আর বাকিদের অবস্থা ‘মাঝারি’ ধরনের।
