অনাবৃষ্টি-তাপদাহে পুড়ছে রোপা আমনের বীজতলা

বাগেরহাটে এবার ৭৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

অলীপ ঘটক, বাগেরহাট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 09:23 AM
Updated : 5 August 2022, 09:23 AM

বৃষ্টির অভাবে ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় চলতি মৌসুমে বাগেরহাটে রোপা আমন ধানের চাষ ব্যাহত হচ্ছে। পানির অভাবে কৃষক যেমন বীজতলা তৈরি করতে পারছে না তেমনি প্রচণ্ড তাপদাহে পুড়ে যাচ্ছে বীজতলার মাঠ।

সময়মতো মাঠে আমন ধানের চারা রোপণ করতে না পারায় অনেক চাষি ফসল ফলানো নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। অনেক কৃষক এ বছর ধানের আবাদ না করার কথাও বলছেন। এতে চলতি মৌসুমে বাগেরহাটে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসবের প্রভাব পড়বে না বলে দাবি কৃষি বিভাগের। বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে ৭৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের জয়গাছি গ্রামের উত্তরপাড়ার জয়গাছি বিল, কচুয়া উপজেলার হাজরাখালি বিল এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে ধানের বীজতলা তৈরি করতে জমি প্রস্তুত করে বীজবপণ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু চারা গজানোর পর প্রচণ্ড খরায় তা পুড়ে মরে যায়। চারা লালচে হয়ে গেছে।

জানা গেছে, সাধারণত জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরির কাজ করেন কৃষক।

বেমরতা ইউনিয়নের জয়গাছি গ্রামের উত্তরপাড়ার একরামুল কবির, ফকির আকরাম ও মামুন শেখ বলেন, দুই দশক ধরে ধানের আবাদ করছেন তারা। এবার বীজতলার তৈরির জন্য ধান ফেলেন। তবে বীজতলায় সেই ধানের চারা গজানোর পর তা রৌদ্রের তাপে এবং লবণ পানির কারণে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

তারা বলেন, একদিকে বৃষ্টি নেই, অন্যদিকে পানির প্রবাহের জন্য খালের স্লুইচ গেট খুলে লবণাক্ত পানি ঢুকানোর কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক বৈদ্যনাথ সাহা বলেন, “চার বিঘা জমিতে ধান আবাদ করি। বীজতলা তৈরি করতে বীজধান ফেলেছিলাম। পানির অভাবে সেই বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এ বছর ধান আবাদ করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।”

“চার বিঘা জমিতে যে ধান হয় তা দিয়ে ১০ জনের সংসারের চাল রেখে উদ্বৃত্ত ধান হাটে বিক্রি করি। ধানের আবাদ করতে না পারলে বাজার থেকে চাল কিনে খেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাস এলে গ্রামের মানুষ ধানের আবাদ করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু এ বছর ভরা বর্ষায়ও বৃষ্টি-বাদল নেই। যার কারণে অনেকেই এ বছর ধান আবাদে আগ্রহ হারিয়েছে। তবে চলতি শ্রাবণ মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে হয়তো জমি মালিকরা ধানের আবাদ শুরু করতে পারেন।

বাগেরহাট কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, গত বছর জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বাগেরহাটে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, কিন্তু এ বছর হয়েছে মাত্র ২০০ মিলিমিটার। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। যার কারণে কৃষক সময়মতো বীজতলা তৈরি করতে পারেনি। এ ছাড়া মাছচাষিরা জোয়ারের লবণ পানি জমিতে তোলার কারণেও কৃষক বীজতলা তৈরি করতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে ৭৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। আশার কথা, গত কয়েকদিন এই জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

উপ-পরিচালক মো. আজিজুর বলেন, বৈরি পরিবেশের কারণে কৃষকরা হতাশ ও চিন্তিত। কৃষকদের হতাশ না হয়ে কৃষি বিভাগ থেকে বীজ সংগ্রহ করে মিষ্টি পানি দিয়ে বীজতলা তৈরির পরামর্শ দিচ্ছি।

যারা বীজতলা তৈরি করবেন না তারা অন্য যারা বীজতলা তৈরি করে তাদের থেকে চারা সংগ্রহ করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবেন বলে আশা করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক