জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: কক্সবাজারে ‘বাস কম’

রোববার নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও পরিবহন শ্রমিকরা।

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 August 2022, 04:32 PM
Updated : 6 August 2022, 04:32 PM

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর কক্সবাজারে বাসের চলাচল কম দেখা গেছে। কয়েকজন যাত্রী বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ করলেও পরিবহন কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে যাত্রী নিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাস ছেড়ে গেছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বাস কম এসেছে।

শনিবার প্রথম প্রহর থেকে জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম কার্যকর হয়েছে। বাসের জ্বালানি ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা হয়েছে। ছোট গাড়ি ও মোটর সাইকেলের জ্বালানি পেট্রোল ও অকেটেনের দাম যথাক্রমে বেড়েছে ৪৪ ও ৪৬ টাকা।

এতে করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য দেখা দেয়। রাজধানীসহ জেলা শহরে বাস কমে যায়। অনেক জায়গায় তেলের মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করার আগেই টিকিটের দাম বাড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পরিবহন সার্ভিসের বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, বাস অন্য দিনের তুলনায় কম। দূরপাল্লার যাত্রী বাসের অপেক্ষা করছেন। আবার কিছু যাত্রী বাসে উঠছেন।

বৃহস্পতিবার মাদারীপুর থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন আবু তোয়াব অপু।

আবু তোয়াব বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের শ্যামলী পরিবহন সার্ভিসের বাস কাউন্টারে বাড়ি ফিরতে টিকিট নিতে আসেন। কাউন্টারে অন্যদিনের চাইতে ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী বাসের সংখ্যা কিছুটা কম দেখা গেছে।

“আসার সময় শ্যামলী পরিবহনের বাসেই কক্সবাজার এসেছিলাম। তখন ভাড়া নিয়েছে প্রতি আসনের জন্য ৯০০ টাকা। এখন কক্সবাজার হতে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া নিয়েছে জনপ্রতি এক হাজার টাকা।”

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এখন যাত্রীপ্রতি অতিরিক্ত ১০০ বেশি ভাড়া নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আরও কয়েকজন যাত্রী।

বুধবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ফরহাদ হোসেন তার তিন বন্ধুকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সোহাগ পরিবহন সার্ভিসের বাসে করে কক্সবাজার এসেছিলেন।

ফরহাদ বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ ফিরতে বন্ধুরা মিলে কক্সবাজার শহরের সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারে টিকেট সংগ্রহে যান। তারা আগের এক হাজার ৮০০ টাকা হারেই টিকিট কেটেছেন।

এস আলম পরিবহন সার্ভিসের কক্সবাজার কার্যালয়ের ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন বলেন, আগের নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় করে বাসগুলো যাত্রী পরিবহন করছে। যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় যাচ্ছেন।

সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কক্সবাজার হতে এস আলমের অন্তত ৬০টি বাস ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়নি বলে জানান নাজিম।

পূরবী পরিবহন সার্ভিসের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী ইনচার্জ মোহাম্মদ ইমরান বলেন, শনিবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাদের ৩০টি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশে কক্সবাজার ছেড়ে গেছে।

“আগে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জনপ্রতি সরকার নির্ধারিত ভাড়া ছিল সাড়ে ৩০০ টাকা। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে ব্যবসার স্বার্থে ৩০০ টাকায়ও যাত্রী পরিবহন করেছি। এখনও একই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।”


তবে কয়েকটি এলাকায় পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে তুলনামূলক কিছুটা কম বাস জেলা শহরে ঢুকেছে বলে জানান পরিবহন কর্মী ইমরান।

এদিকে শ্যামলী পরিবহন সার্ভিসের কক্সবাজার কার্যালয়ের ইনচার্জ খোরদেশ আলম শামীম বলেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকার সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়া জনপ্রতি এক হাজার ৫০ টাকা। তারা ৯০০ টাকা করে নিতেন ব্যবসার স্বার্থে।

“জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শনিবার সকাল থেকে আপাতত যাত্রীপ্রতি এক হাজার টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সরকার নতুন করে ভাড়া নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জানালে তা কার্যকর করা হবে।”

সৌদিয়া পরিবহনের ইনচার্জ নিরূপম দাশ বলেন, আগের নির্ধারিত হারেই যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছেন। ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ জানান, বাস ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে রোববার মধ্যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। শনিবারের সার্বিক বিষয় নজরে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পর্যটকের যাতায়াতে এখন পর্যন্ত কোনো ভোগান্তির খবর পাননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে এ পর্যন্ত কোনো পর্যটকের যাতায়তে ভোগান্তির খবর তিনি শোনেননি।

“সরকার যাত্রী পরিবহনে এখনও নতুন করে ভাড়া নির্ধারণের ঘোষণা দেয়নি। তাই নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আপাতত পরিবহন সার্ভিসগুলোকে আগের নির্ধারিত হারেই যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিতে হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক