কৃষি বিভাগ ক্ষেত থেকে কৃষকদের অতিরিক্ত পানি সরিয়ে শুকিয়ে ফেলা এবং নতুন করে চারা রোপনের পরামর্শ দিচ্ছে।
Published : 28 Oct 2022, 12:25 AM
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে শরীয়তপুরের ছয়টি উপজেলায় বিপুল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সদর, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায়।
শরীয়তপুর জেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার ছয়টি উপজেরায় রোপা আমন ধান ৩৩২ হেক্টর, বোনা আমন ধান ৪৯০ হেক্টর, শাক সবজি ৩৩৯ হেক্টর, মাস কলাই ৫ হেক্টর, মরিচ প্রায় ২শ হেক্টর, পিঁয়াজ সাড়ে ৮ হেক্টর, পান ২৮ হেক্টর ও অন্যান্য ৪০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
শুধু জাজিরা উপজেলায় প্রায় ২৩৫ হেক্টর করলা, বেগুন, ধুন্দুল, লাউ, শসা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন আগাম শীতকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ১২১ হেক্টর আমন ধান, ১৫ হেক্টর জমির পেঁয়াজ, ২৬ হেক্টর খেসারী ও মসুর, ২২ হেক্টর মরিচ ও ১০ হেক্টর রসুনের ক্ষতি হয়েছে।
জাজিরা উপজেলার ডুবি সায়বর এলাকার কৃষক মতি খা, নয়ন বেপারী বলেন, আগাম শীতকালীন সবজি হিসেবে ৩০ বিঘা জমিতে করলা, বেগুন, লাউ ও শসার চাষ করেছিলেন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিতে তাদের সম্পূর্ণ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
এসব সবজি চাষে তারা প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন বলে জানান।
লাউখোলা এলাকার সবজি চাষি ইয়সিন মোল্লা বলেন, “তিন বিঘা জমিতে করলা ও বেগুন চাষ করেছিলাম। সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট অতিবৃবৃষ্টির কারণে আমার সম্পূর্ণ জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন আমাদের মাথায় হাত পড়েছে।”
শরীয়তপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা মতলুবর রহমান বলেন, হঠাৎ ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাজিরা উপজেলার সবজি চাষিরা। অন্যান্য উপজেলায়ও বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে।
“আমরা আপাতত বিভিন্ন ক্ষেত ঘুরে কৃষকদের অতিরিক্ত পানি ক্ষেত থেকে সরিয়ে ফেলে পানি শুকিয়ে ফেলার কথা বলছি। পাশাপাশি নতুন করে চারা রোপনের পরামর্শ দিচ্ছি।”