গোপালগঞ্জে কৃষককে আটকে রেখে ‘মারধর’, কৃষি ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত

গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ সেলে লিখিত অভিযোগ দেন ওই কৃষক।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Feb 2024, 11:04 AM
Updated : 14 Feb 2024, 11:04 AM

গোপালগঞ্জে কৃষককে আটকে রেখে মারধরের ঘটনায় কৃষি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সাময়িক বরখাস্তদের একজন গোপালগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক শাখা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আজিজ নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয় বলে জানালেও এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারেননি আব্দুল আজিজ।

আজিজ ছাড়াও বরখাস্ত অন্য দুজন হলেন- গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কৃষি ব্যাংকের রামদিয়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইলিয়াস হোসেন ও ইনভেস্টিগেশন অফিসার (আইও) রাফিজুল ইসলাম।

গত সোমবার ব্যাংকটির ওই শাখায় দেনায়ের সরদার (৬২) নামে এক কৃষককে মারধরের ঘটনা ঘটে।

কৃষক দেনায়ের কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা গ্রামের প্রয়াত নুরুল সরদারের ছেলে।

ওই দিন তার ছেলে তাকবীর সরদার (২৭) ও জামাতা মোতাকাব্বির মুন্সীকেও (২৫) মারধর করা করার অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়।

এ ঘটনায় দেনায়ের সরদার গত বুধবার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমলি আদালতে ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন বলে বাদীর আইনজীবী মো. মুহাব্বত হোসেন সরদার জানান।

দেনায়েত সরদার বলেন, “১ মাস আগে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের জন্য ৩ লাখ টাকা ঋণ নিতে আমি রামদিয়া কৃষি ব্যাংকে যাই। ঋণ পেতে আবেদন করি। গত ২০ অগাস্ট ব্যাংকের আইও রাফিজুল ইসলাম আমার বাড়িতে তদন্তে যান। পরে কিছু উৎকোচ দাবি করেন। আমি তাকে উৎকোচ দিইনি।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মকর্তা আমাকে ‘ঋণগ্রস্ত’ দেখিয়ে ঋণের আবেদন বাতিল করেন।”

এ ব্যাপারে গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ সেলে লিখিত অভিযোগ দেন জানিয়ে ওই কৃষক আরও বলেন, “গত ১৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল আজিজ ও তার সহযোগী অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য রামদিয়া কৃষি ব্যাংকে আসেন। সেখানে তদন্ত দলের সাথে আমার জামাতা মোতাকাব্বির মুন্সীর বাকবিতণ্ডা হয়।

তখন স্থানীয় লোকজন অতর্কিতভাবে ব্যাংকের ভেতর প্রবেশ করেন। তারা আমাদের সাথে ঝগড়া শুরু করেন। এসময় পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের সবগুলো গেইট ও সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই বহিরাগতরা আমাদের কিলঘুষি, লাথি ও মেঝেতে ফেলে পা দিয়ে পিষতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রামদিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেয়। পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর রেখে আমাদের ছাড়ে। 

[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক]