Published : 20 Jan 2026, 11:07 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনের দাবিতে দিনভর আন্দোলন করেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ শেষে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসে। এ সময় আন্দোলনকারীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শাকসু ভোটের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে ছেলেদের শাহপরাণ ও বিজয়-২৪ হল ঘুরে মেয়েদের তিনটি আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবন-১ এর সামনে জড়ো হয়।
বিক্ষোভে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম বলেন, “শাকসু নিয়ে ‘নোংরা রাজনীতি’ শুরু হয়েছে। আগামীকাল আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব। সে কর্মসূচির ফলাফল হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে শাকসু নির্বাচন হবে।
“আমরা এর মধ্যে দেখেছি, অনেকগুলো বিভাগ আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছে, তাদের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছে। তারা আমাদের জানিয়েছে, তারা হল, মেস, বাসা থেকে বের হয়ে আমাদের সঙ্গে লাগাতার কর্মসূচি পালন করবে।”
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভাইদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে মাঠে নেমে আসুন।
“আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। আমরা আর নতুন কোনো স্বৈরাচার দেখতে চাই না। এ বাংলায় জুলাই শহীদদের রক্ত রয়েছে, সে বাংলায় স্বৈরাচারের জন্ম হতে দেব না। জুলাইয়ের দাবি ছিল ছাত্রসংসদ, যদি ছাত্রসংসদ হতে না দেওয়া হয়, আরেকটা জুলাই নামিয়ে আনব।”
স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, “শিক্ষার্থীদের পালসের বাইরে গিয়ে যারা অতীতে রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করেছে, জনগণ তাদের ছুড়ে ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা অতীতেও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আমরা জুলাইয়ে হাসিনাকে তাড়িয়েছি।
“প্রয়োজনে আবারও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। আজকের এই শিক্ষার্থীদের জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে, নৈতিকভাবে বিএনপি পরাজিত হয়েছে। শাকসু নির্বাচন হবেই এবং তা জাতীয় নির্বাচনের আগেই।”
দিনভর বিক্ষোভে ‘হাই কোর্ট না শাকসু, শাকসু, শাকসু’, ‘শাকসু নিয়ে তাল বাহানা, মানি না-মানব না’, ‘হাদি ভাই শিখিয়ে গেছে, লড়াই করে বাঁচতে হবে’, ‘সাস্টিয়ানদের ডিসিশন, কালকে হবে নির্বাচন’, ‘আমাদের ডিসিশন, মানতে হবে প্রশাসন’, ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘শাকসু চাই, শাকসু দাও, নয়তো গদি ছাইড়া দাও’ স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় নির্বাচনের আগে শাকসু আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন তারা।
১২ ফেব্রুয়ারির আগে শাকসু ভোট চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য, পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগ, বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগ, পেট্রোলিয়াম ও খনিপ্রকৌশল বিভাগ, জৈবরসায়ন ও আণবিক জীববিদ্যা বিভাগ, গণিত বিভাগ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, বাংলা বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, লোকপ্রশাসন বিভাগ, সমাজকর্ম বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২৮টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে রাতের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান বিভাগগুলো বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধি।
চেম্বার জজ আদালতে আবেদনের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমরা চেম্বার জজ আদালতে হাই কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু চেম্বার আদালত তা গ্রহণ করেনি। তারা সেটা ফুল কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছে।”
শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজনের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার দুপুরে ভোট চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন হাই কোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেম্বার আদালতে যায়; কিন্তু সেখানে আর শুনানি হয়নি।
তবে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
বৈঠক শেষে শাকসু নির্বাচনের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। অন্যদিকে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এসেছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা, চেম্বার আদালতে যাবে প্রশাসন
শাকসু: আদালতে আটকাল ভোট, অবরুদ্ধ ভিসিকে আল্টিমেটাম
শাকসু নির্বাচন ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত
শাকসু: মঙ্গলবার ভোটের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, অবরুদ্ধ ভিসি