চাকরিতে বৈষম্য নিরসন ও পোশায় কারখানায় নিয়োগে পুরুষদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
Published : 02 Sep 2024, 06:39 PM
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিভিন্ন কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় নয়টি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে; এতে আহত হয়েছেন দুই শ্রমিক।
সোমবার সকাল থেকে চলা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর ঠেকাতে উপজেলার ১১টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন।
ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলো হলো- টঙ্গীর বিসিক এলাকার টসি নিট ফেব্রিক্স লিমিটেড, ন্যাশনাল কম্পোজিট লিমিটেড, পেট্রিয়ট ইকো অ্যাপারেল লিমিটেড, বেলিসিমা অ্যাপারেল্স লিমিটেড, জিন্স অ্যান্ড পোলো লিমিটেড, টেঙ্গন গার্মেন্টস লিমিটেড, রেডিসন গার্মেন্টস লিমিটেড, আরবিএস গার্মেন্টস লিমিটেড, গার্ডেন টেক্সটাইল লিমিটেড, সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড এবং তাজকিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড।
আহতদের মধ্যে বাদশা মিয়ার (২১) পরিচয় পাওয়া গেলেও অন্যজনে পরিচয় পাওয়া যায়নি। তিনি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সকালে থেকে টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকার পোশাক শ্রমিকরা নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগদান করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন শতাধিক চাকরিচ্যুত শ্রমিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ১১টি পোশাক কারখানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।
এ সময় কারখানায় কর্মরত নিয়মিত (রেগুলার) শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালে তারা অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শ্রমিকরা ১১টি কারখানায় ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুর ঠেকাতে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বাধা দিলে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুইজন আহত হয়।
ভাঙচুর এড়াতে দুপুর ২টায় কর্তৃপক্ষ ১১টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে। এ সময় চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা পানির ট্যাঙ্কি এলাকার শাখা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
চাকরিচ্যুত শ্রমিক রনি জানান, তারা কয়েক সপ্তাহ আগেও বিক্ষোভ করেছেন। কারখানাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
তাজকিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) হেমায়েত উদ্দিন বলেন, সকালে বহিরাগত শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে প্রধান ফটকে ভাঙচুর চালায়। ক্ষতি এড়াতে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন বলেন, চাকরিতে বৈষম্য নিরসন ও পুরুষ শ্রমিকদের নিয়োগে অগ্রাধিকারের দাবিতে কয়েকশ চাকরিচ্যুত শ্রমিক কারখানা ভাঙচুর করেছে।
একপর্যায়ে শ্রমিকরা টঙ্গী বিসিকের একটি সড়কে অবস্থান নিলে তাদেরকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তবে ফের ভাঙচুর এড়াতে কর্তৃপক্ষ ১১টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জানান শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা।