জাহাজে ৭ খুন: ‘কইছিল মা বসে না থাহে জাহাজে যাই, কিছু টাহা হবি’
“তার স্বপ্ন ছিল বেতন বাড়বি। মা-বাবা বউ নিয়ে সুখে থাকবে, কিন্তু তা আর হল না।”
নবম শ্রেণির ছাত্র মাজেদুল ইসলাম বার্ষিক পরীক্ষা শেষে সংসারের হাল ধরতে জাহাজে লস্করের কাজে যোগ দেয়। কিন্তু কিছুদিন না পেরোতেই টগবগে এই কিশোরের নৃশংস হত্যার খবর আসে পরিবারের কাছে।
আর তিন মাস আগে বিয়ে করে সংসার পেতেছিলেন ২২ বছর বয়সী সজিবুল ইসলাম। স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটাতে জাহাজে যান তিনি। বেতন বাড়বে, সংসারের অভাব দূর করে সুখে-আনন্দে জীবন কাটাবেন এমন স্বপ্নই ছিল তার। সজিবুলের সেই স্বপ্নও রক্তে ভেসে গেছে।
সোমবার বিকালে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় মেঘনা নদীতে এমভি ‘আল বাখেরাহ’ জাহাজে যে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে তাদের মধ্যে মাজেদুল আর সজিবুলও ছিলেন।
মো. মাজেদুল মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার চরশোমন্তপুর এলাকার আনিচুর রহমানের ছেলে। আর সজিবুল একই উপজেলার পলাশবাড়ীয়া গ্রামের দাউদ মুন্সীর ছেলে।
জীবনে সুখ ফেরানোর আশায় যারা জাহাজে উঠেছিলেন, সেখানেই তাদের জীবনাবসানের ঘটনায় চরশোমন্তপুর ও পলাশবাড়ীয়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম। প্রিয়জনকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা হয়ে পড়েছেন দিশেহারা।
চরশোমন্তপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাজেদুল ইসলামের মা মুক্তি বেগম অনবরত কেঁদেই চলেছেন। ছেলের কথা জিগেস করতেই আর্তনাদ করে ওঠেন তিনি।
মুক্তি বেগম বলেন, “আমার মাজেদুল কেবল নাইনি (নবম শ্রেণি) পড়ে। স্কুল বন্ধ দেছে। কইছিল মা, আমি এই বন্ধের সময় বসে না থাহে জাহাজে যাই। সংসারের যা অবস্থা, কিছু টাহা হবি। আমার মনি ওই যে গিলো, আর আলো না। ফোন দিছি বন্ধ কয়। আমার ছেলেরে হত্যার বিচার চাই।”
সজিবুল ইসলাম ভাই-বোনদের মধ্যে ছিলেন মেঝ। মাত্র তিন মাস আগে নতুন করে জীবন শুরু করা সজিবুল জীবন থেকেই যে বিদায় নিয়েছেন, তা যেন এখনও বিশ্বাস করেন না বাবা দাউদ মুন্সী।
দাউদ বলেন, “মাত্র তিন মাস হইছে তারে বিয়ে দিছি। সে কোর্স করছে, পরীক্ষা দিয়ে জাহাজের মাস্টার হবে। তার স্বপ্ন ছিল বেতন বাড়বি। মা-বাবা বউ নিয়ে সুখে থাকবে, কিন্তু তা আর হল না।”
