Published : 21 Apr 2026, 12:47 PM
কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড়ে তাদের মরদেহ দেখতে পান কাঠুরিয়ারা। পরে সেখান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- স্থানীয় নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ও রুহুল আমিনের ছেলে রবিউল আওয়াল। তারা বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি বলছেন, “স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নিহত রবিউল আউয়ালের বাবা রুহুল আমিন বলেন, “রাতে মুজিব আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে পাহাড়ে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। কী কারণে তাকে হত্যা করা হল, বুঝতে পারছি না।”
স্থানাীয় বাসিন্দা আজিজুল রহমান বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটছে। টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের ভয়ে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “নিহত তিনজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।”