Published : 25 Aug 2026, 04:44 PM
চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ফরিদপুরে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনে জেলায় পেঁয়াজের উৎপাদনও হয়েছে ব্যাপক।
তবে উৎপাদন ভালো হলেও বর্তমান বাজারদরে সন্তুষ্ট নন কৃষকরা। প্রকারভেদে চাষি পর্যায়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে।
কৃষি বিভাগ বলছে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় আপাতত বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন নেই।
ফরিদপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪০ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার আবাদ হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।
জেলার কৃষকেরা সাধারণত উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ চাষ করেন। এর মধ্যে কিং জাতের পেঁয়াজের আবাদ বেশি। আকারে তুলনামূলক বড় হওয়ায় এ জাতের পেঁয়াজে ফলনও বেশি পাওয়া যায়।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন বাজারে চাষি পর্যায়ে প্রকারভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজারদরে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফরিদপুরের ঠেনঠেনিয়া বাজারের পেঁয়াজচাষি বজলুর রহমান, আবু তালেম মোল্লা, হাসমত শেখ ও সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে এখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন। দাম আরও কিছুটা বাড়লে তারা লাভবান হবেন।
চাষিদের দাবি, উৎপাদন ভালো হলেও পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এসব পেঁয়াজ নষ্ট না হলে তারা যেমন লাভবান হতেন, তেমনি রাষ্ট্রও কৃষকদের কাছ থেকে আরও বেশি পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে পারত। এতে বাজারে সরবরাহ ও দামের ভারসাম্যও বজায় থাকত।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ফরিদপুরের কৃষকদের ঘরে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে আপাতত বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফরিদপুরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামান বলেন, “স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে দর আরও একটু বৃদ্ধি পেলে চাষিরা লাভবান হতেন।”
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন করেছেন। জেলায় প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কৃষক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।