দখল-লুট: কৃষকদল নেতার আক্ষেপ, ‘ফ্যাসিস্টের আমলের চেয়ে খারাপ আছি’
“তারা আমার তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলসহ প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে; আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।”
আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও খারাপ আছি-এমন আক্ষেপ করেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্য সচিব শামীম গাজী।
তার অভিযোগ, বিএনপির ‘হাইব্রিড’ নেতাদের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তিনি। দখল করা হয়েছে তার তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান; লুট করা হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা।
শুক্রবার দুপুরে জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব আক্ষেপের কথা বলেন তিনি।
এসব ঘটনার জন্য শামীম রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ ও তার ভাই মেহেদী কবিরাজের বাহিনীকে দায়ি করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক কবিরাজ।
উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর ছেলে শামীম লিখিত তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের আমলে কোনো দিন ফারুক কবিরাজকে আন্দোলন-সংগ্রামে দেখিনি। ৫ অগাস্টের পর তিনি ‘হাইব্রিড’ হয়ে ফিরে এসে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হন। এরমধ্যে তার ভাই মেহেদী কবিরাজের নেতৃত্ব একটি অস্ত্রধারী বাহিনী ইউনিয়নব্যাপী আধিপত্য বিস্তার করেন। তারা চরের অন্তত দুই হাজার একর জমি দখল করে নিয়েছেন।
“মাছঘাট দখল, চাঁদাবাজি, দুঃসময়ে পাশে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা-ভাঙচুরসহ ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে তারা। এছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করেছে। যাদের অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারে না।”
শামীম বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমলের শেষ ১৩ বছর রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ফারুক কবিরাজের ষড়যন্ত্র এবং তার ভাই মেহেদী কবিরাজের একের পর এক হামলার কারণে আজও চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এখনও রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারি না। হত্যার হুমকি ও আমার কর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
“তারা আমার তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলসহ প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে; আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দিয়েছে। অতীতের চেয়ে বেশি কষ্ট এখন আমি ভোগ করছি। ফ্যাসিস্টের আমলের চেয়ে আমি এখন আরও বেশি খারাপ অবস্থায় আছি।”
এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শামীম।
তার দাবি, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের জেরে ফারুক কবিরাজ তাকে ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজ বলেন, “একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত জনগণ শামীমের ফার্মেসিতে হামলা করে। এ ঘটনায় আমি বা আমার কেউ জড়িত নয়। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগের ঘটনাগুলো কখনো ঘটেছে কি না আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।”
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলছেন, “শামীম গাজীর মাছঘাটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা শুনেছি। তবে এসব ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
