১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লেকে ডুবে কিশোরের মৃত্যু, বন্ধুরা বলছে ‘বাজি’, পরিবারের দাবি হত্যা

শনিবার রাতে চাঁদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের পাশের লেক থেকে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

লেকে ডুবে কিশোরের মৃত্যু, বন্ধুরা বলছে ‘বাজি’, পরিবারের দাবি হত্যা
আল আমিন ওরফে তুহিন।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2025, 01:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

চাঁদপুর শহরের লেক থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোরের বন্ধুরা বলছে বাজি ধরে লেক পাড়ি দিতে গিয়ে সে ডুবে গেছে। অন্যদিকে পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।  

শনিবার রাতে শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের পাশের লেক থেকে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া। 

মৃত আল আমিন ওরফে তুহিন (১৭) চাঁদপুর শহরের মমিনপাড়ার রমজান আলী প্রধানিয়ার ছেলে। এ বছর চাঁদপুর গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছে তুহিন। 

আল আমিনের মামা রাজু মাঝি বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় আল আমিন ঘর থেকে বের হওয়ার পর রাতে তার পরিবার ঘটনার খবর পায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান তারা।

আল আমিনের নানা চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল মাঝি বলেন, “এটি একটি হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে। কারণ, তার চোখে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন আছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”

ওসি বাহার মিয়া বলেন, এ ঘটনায় সাতজন কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিশোরদের দাবি, বন্ধুদের সঙ্গে ৫০০ টাকা বাজি ধরে সাঁতরে লেক পার হচ্ছিল আল আমিন। এ সময় সে পানিতে ডুবে যায়। 

তখন কিশোররা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার শরীরে আঘাত লাগে।

হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান বলেন, “ওই কিশোরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার চোখে ও হাতে আঘাতের বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারবো না। 

“বিষয়টি পুলিশ কেস হিসেবে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য দিয়েছি। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে।”

ওসি বাহার মিয়া বলেন, আটক কিশোরদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আল আমিনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। 

লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।