Published : 25 Aug 2026, 12:30 PM
নড়াইল ও যশোরের দুই উপজেলার ১৬ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা আফরা কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
প্রায় এক মাস ধরে সেতুটি ভেঙে পড়ে থাকলেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন।
নড়াইল শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িভৈরব নদ। নদীর পূর্ব পাড়ে নড়াইলের শেখহাটি ইউনিয়নের আটটি গ্রাম এবং পশ্চিম পাড়ে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের আটটি গ্রাম।
নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিলো বাঁশ ও কাঠের তৈরি ‘আফরা সেতু’। ২০১২ সালে শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম রেজার নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এটি নির্মাণ করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে এটি সংস্কার করা হয় স্থানীয়দের উদ্যোগেই।
এ সেতু দিয়ে নদীর দুই পাড়ের বহু শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতেন। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে নদী পারাপারের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করেন।
তবে বুড়িভৈরব নদের ওপর নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর জানিয়েছেন।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহ মোহাম্মদ শাদাতের বাড়ি নড়াইলের শেখহাটি গ্রামে। সে পাশের যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার একটি স্কুলে পড়াশোনা করে।
শাদাত বলছিল, “প্রতিদিন নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আগে কাঠের সেতু ছিল, সেটি ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়।”
আফরা গ্রামের সেকেলা বেগম ও মেহেরুন নেছা বলছিলেন, বুড়িভৈরব নদ পার হয়ে তাদের মিলে কাজ করতে যেতে হয়। আগে কাঠের সেতু থাকায় মিলের কাজ শেষ করে রাত ১০-১২টা পর্যন্ত কাজ করেও বাড়ি ফিরতে সমস্যা হতো না। ইচ্ছামত চলাচল করা যেত।
এখন রাত ৮টার পরে নৌকা পাওয়া যায় না। তাই আগেভাগেই কাজ শেষ করে ফিরতে হয় বলে জানান তারা।
ফখরুল ইসলাম নামের একজন বলেন, “প্রতিদিন বুড়িভৈরব নদীর আফরা সেতু দিয়ে শত শত মানুষ যশোর, নওয়াপাড়া ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুটির নির্মাণ হলে আমাদের চলাচলের সুবিধা হবে।”
শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, “স্থানীয়দের নিয়ে ২০১২ সালে কাঠের সেতুটি নির্মাণ করেছিলাম। বিভিন্ন সময়ে ভেঙে গেলে নিজেদের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়েছে।
“নড়াইল ও যশোরের দুই উপজেলার ১৬ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা আফরা কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।”
তিনি বলেন, “সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর আর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় এক মাস ধরে এটি পড়ে আছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, “নড়াইল জেলা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেতুর নকশার কাজ চলছে। এটা শেষ হলে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।”