Published : 01 Jun 2026, 09:08 PM
চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও অধিকার নিশ্চিত করতে চর বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন এবং জাতীয় বাজেটে নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। এখানে প্রায় ৪০০টি চর রয়েছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক চরে মানুষ বসবাস করে। এসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন, দারিদ্র্য এবং যোগাযোগ সমস্যার মধ্যে রয়েছে।
সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, ১০ বছরে কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনে প্রায় এক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। তারা জীবিকা ও শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়। গত পাঁচ বছরে প্রায় দুই হাজার পরিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে গেছে বলেও দাবি করা হয়।
সংগঠনের মতে, দেশের প্রায় ৩২ জেলার ১০০টির মতো উপজেলায় চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় দুই কোটি মানুষ বসবাস করে। তারা কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখলেও উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “চরবাসীর উন্নয়নের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় এবং বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি।”
তিনি বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো স্থায়ী নীতিমালা নেই।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল বলেন, চরাঞ্চলের উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নদী ভাঙনের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে চরাঞ্চলের উন্নয়নে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- চর বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন, বাজেটে আলাদা বরাদ্দ, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ।