Published : 18 Feb 2026, 11:14 PM
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেষা কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার বাজারে রাতে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া কুকুর সদৃশ রোবট নিয়ে চলছে আলোচনা।
এ নিয়ে এলাকায় কিছুটা আতঙ্কও বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার ভোরের দিকে ধরা পড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রোবট সদৃশ্য চলন্ত একটি বস্তু, যা দেখতে অনেকটা কুকুরের মত; দ্রুত রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে চলে যাচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের মিলনি বাজার এলাকায়।
ওই বাজারের আলাউদ্দিন ইলেকট্রনিক্স ও হার্ডও্যয়ারে দোকানের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
সেখানে সোমবার রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে থেকে মঙ্গলবার ভোর রাতে রেকর্ড হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লাইট জ্বালিয়ে চার পায়ে গলির পাশ দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে রোবট সদৃশ বস্তু।
কয়েক সেকেন্ডেই ক্যামেরার বাইরে চলে যায় সেটি।
পরের দিন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে দোকান মালিকের চোখে পড়ে বস্তুটি।
আলাউদ্দিন ইলেক্ট্রনিক্স ও হার্ডওয়্যার দোকানের মালিক রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, “এর আগে আমাদের দোকান চুরি হয়েছিল। তারপর আমরা সিসি ক্যামেরা লাগাই। গতকাল রাতে আমার ছোট ভাই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করতে গিয়ে দেখতে পায়, দোকানের সামনে দিয়ে রাত সাড়ে তিনটার পরে রোবটটি দৌড়ে যাচ্ছে। পরে ফুটেজটি ফেইসবুকে দেওয়া হয়।
ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
রোকনের ছোট ভাই নাজমুল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন আমরা কমবেশি ভিডিওগুলো দেখি। ওইদিন রাতে বাজারের পাশে এক বাড়ি থেকে গরু চুরি হয়। এ কারণে মঙ্গলবার ৯টার দিকে আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করতে বসি। এটি প্রথমে সাইকেলের মত মনে হয়েছিল।
“দ্বিতীয়বার দেখতে গিয়ে রোবট সদৃশ বস্তুটি দৌড়ে যেতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেল যায় দ্রুত গতিতে এবং ফিরেও আসে।”
পাশের মুদি দোকানদার নূর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, “প্রতি রাতে দোকানে থাকি। সারারাত ঘুমাই না। ওই রাতে তিনটার পরে একটা কেমন শব্দ শুনি। কিসের শব্দ বুঝতে পারি নাই। পরে টিনের ফাঁক দিয়ে দেখি, লাইট জ্বালিয়ে বস্তুটি লাফায় লাফায় যাচ্ছে। চারটা পা। দেখে ভয় পাইছি। গিয়ে শুইছি। কয়েক মিনিট পর একটা মোটরসাইকেল খুব জোরে ওদিকে যায়। আবার ফিরে আসে। ওটা কী জিনিস বুঝতে পারছি না।”
বাজার কমিটির সভাপতি শুকুর আলীর ভাষ্য, “সীমান্ত থেকে বাজারটি প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। এখানে ভারতীয় রোবট আসার সম্ভাবনা নেই। তবে কারা এটা করেছে, তা বের করা দরকার। আমরা অনেকটা আতংকিত।”
খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
কচাকাটা থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র বলেন, “বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রকৃত পক্ষে কী ঘটেছিল তা অনুসন্ধান চলছে।”
২২ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক বলেন, “এখানে রোবট আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর পর্যবেক্ষণ চলছে।”
এটি কারো ব্যক্তিগত বা নিরাপত্তা বাহিনীর রোবট হতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল।
তিনি বলেন, “এতে নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি আছে বলে আমি মনে করি না। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই।”