১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সাদাপাথর লুট’: এবার ধান ক্ষেত থেকে পাথর উদ্ধার

সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে আরও প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করেছে প্রশাসন।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2025, 09:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:36 PM

সিলেট সদর উপজেলায় ধান ক্ষেতে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা পাথর উদ্ধার করেছে প্রশাসন। এ ছাড়া ক্র্যাশার মিল ও বাড়ির আঙ্গিনা থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে পাথর। 

সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে আরও প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তানভীর হোসাইন সজীব।

এর মধ্যে বিকালে সদর উপজেলার টিলাপাড়া, রঙগিটিলা, কান্দিপাড়া ও সালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচ হাজার ১০০ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয় বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ।

তিনি বলেন, পাথর লুটে জড়িতের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে। এ ছাড়া জব্দ করা পাথর পর্যায়ক্রমে সাদাপাথরে পুনঃস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।

এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ফরহাদ উদ্দীন অভির নেতৃত্বে যৌথবাহিনী গোয়াইনঘাট উপজেলা জাফলংয়ের জুমপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও সাড়ে চার হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী।

তিনি বলেন, “পাথরগুলো বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে পাথরগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।”

সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তানভীর হোসাইন সজীব বলেন, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালিবাড়ি ও শিমুলতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বালি দিয়ে ঢাকা ১০ হাজার ও টিনের বেড়া দেওয়া অবস্থায় ১৫ হাজার ঘনফুট পাথর পাওয়া গেছে।

গত বছরের ৫ অগাস্ট পটপরিবর্তনের পর থেকে সিলেটের অন্য পাথর কোয়ারির মত সাদাপাথর হিসেবে পরিচিত কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদে ব্যাপক লুটপাট শুরু হয়।

প্রকাশ্যে সেখান থেকে পাথর নৌকায় করে লুট করা হয়। প্রতিদিন শত শত নৌকা দিয়ে লুটের পাথর পরিবহন করা হয়। এক পর্যায়ে নদী তীরের বালি খুঁড়েও চলে লুটপাট।

লাগামহীন লুটপাটের কারণে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্র।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে এ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল পড়লে দুদকসহ স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। 

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ‘সাদাপাথর’ থেকে লুট হওয়া পাথর সাত দিনের মধ্যে উদ্ধার করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

এর আগে শুক্রবার বিকালে পাথর লুটের ঘটনায় খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো-বিএমডির মহাপরিচালক মো. আনোয়ারুল হাবীব বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০০ থেকে ২০০০ জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় পাথর কোয়ারি থেকে ‘কোটি কোটি টাকার’ পাথর লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিশেষ অভিযান শুরু করে টাস্কফোর্স। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থানে বালু ও মাটি চাপা দেওয়াসহ লুকানো অবস্থায় পাথর পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্র্যাশার মিল এবং স্থানীয় বসতবাড়ি থেকেও পাথর উদ্ধার করছে টাস্কফোর্স। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাদাপাথরসিলেটে আরও ৪০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধারআটক ৬

'সাদাপাথর লুট': এবার কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওকে বদলি

সাদা পাথরবদলে গেল সিলেটের ডিসিদায়িত্ব পেলেন সেই সারওয়ার আলম