Published : 16 Mar 2026, 05:00 PM
টাঙ্গাইলের মধুপুরে বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন, রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের হাতে হেনস্তার শিকার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটসের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার মধুপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রামে গিয়ে আক্রান্ত আদিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় তারা ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা কেউ না ঘটাতে পারে সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় লোকজন ও গারো সদস্যরা প্রতিনিধি দলের কাছে অভিযোগ করেন, ৬০ বছর বয়সী রমেন কুবি আট বছর আগে চাঁদপুর রাবার বাগানের কালো পাহাড় এলাকায় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পাঁচ শতাংশ জমির উপর বাড়িঘর নির্মাণ করেন। ওই জমিতে তিনি আম, কাঁঠাল গাছও রোপণ করেছিলেন। সম্প্রতি গৃহবর্ধনের কাজ শুরু করলে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন তাকে বাঁধা দেয় এবং ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলে। তারা আম ও কাঁঠালের গাছ উপড়ে ফেলে দেয়।
৯ মার্চের এ ঘটনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আনসার সদস্যদেরকে গারো পরিবারের এক নারী সদস্যের দিকে রাইফেল তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন ১০ মার্চ মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ এবং ভুক্তোভোগী রমেন কুবি ও শিবলী মাংসাং দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন।
এ ছাড়া ইউএনও ঘর নির্মাণের জন্য ওই পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই বান্ডেল টিন ও ছয় হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতিও দেন। এরই মধ্যে সেসব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইউএনও এবং ওসিকে না জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান না চালাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা থেকে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস সংগঠনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, ব্লাস্টের টাঙ্গাইলের প্রতিনিধি শামসিন্নাহার লিজা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা।

এ সময় সেখানে ৪ নম্বর কুরাগাছা ইউনিয়নের সদস্য অর্চনা নকরেক, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মর্নিংটন চিরান, সংগঠনের ধরাটি-মমিনপুর আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক চন্দন চিরান উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী আদিবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “আমরা এসেছি আপনাদের সংকটে পাশে দাঁড়াতে। আপনারা যেন এখানে স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারেন তার জন্য আমরা পাশে আছি। একটা ইতিবাচক বিষয় হল এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন তৎক্ষণাৎ সক্রিয় হয়েছে। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করব, এরকম ঘটনা যেন আর কোথাও ঘটতে না পারে সেজন্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনসহ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, “আমরা এই প্রথম দেখলাম প্রশাসন একটা ইতিবাচক ও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। অভ্যুত্থানের পরের বাংলাদেশে প্রশাসনের এরকম উদ্যোগ দেখে ভালো লাগল। তবে কোনো নাগরিক যেন এভাবে আক্রান্ত না হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য প্রশাসনকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।”
লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, “প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানায়। তবে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়ার পর্যায়ে চলে যাবে তাও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে যেন এভাবে হয়রানি করা না হয়। আর এখানে যারা গারো, কোচ, বর্মন আদিবাসীরা আছেন তাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”
আরও পড়ুন:
'অস্ত্রের মুখে' উচ্ছেদের পরদিন ঘর পুননির্মাণের আশ্বাস পেল গারো পরিবার