১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কুষ্টিয়ায় পীরের লাশ আস্তানা থেকে ফের কবরস্থানে, উত্তোলন ঠেকাতে এবার পাকা

মামলার বাদী বলেন, “এ নিয়ে নতুন করে হানাহানি, কাটাকাটি হোক সেটা আমি চাই না।”

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 07:04 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় হামলায় নিহত পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের লাশ কবরস্থান থেকে তুলে এনে আস্তানায় দাফনের একদিন বাদে কবরস্থানে নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। 

সোমবার দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে শামীমের লাশ তুলে তার ভক্তরা আস্তানায় নিয়ে দাফন করেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসন গিয়ে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সেটিকে আবার কবরস্থানে নিয়ে রাখা হয়। 

ভবিষ্যতে ভক্তরা যাতে আবারও লাশ উত্তোলন করতে না পারে, সেজন্য রোববার বিকালে প্রশাসনের উপস্থিতিতে এবার কবরটি রড-সিমেন্ট ও বালুর ঢালাই দিয়ে স্থায়ীভাবে পাকা করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

এদিকে কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলনের ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

লাশ চুরির পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে জানিয়ে ওসি খালেদুর রহমান বলেন, জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দরবার ও কবরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পীর শামীমের ভাই ও মামলার বাদী ফজলুর রহমান সান্টুর অভিযোগ, “কে বা কারা রাতের আঁধারে পীর শামীমের লাশ কবর থেকে তুলে এনে আস্তানায় দাফন করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। 

“এ নিয়ে নতুন করে হানাহানি, কাটাকাটি হোক সেটা আমি চাই না। সে কারণে হানাহানি ঠেকাতে প্রশাসনের সাহায্যে কবরস্থানেই শামীমের লাশ দাফন করা হয়েছে।”

পুলিশ জানায়, কবরস্থানে লাশ পুনরায় দাফনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন। 

১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই সময় দুই শতাধিক মানুষ সেখানে হামলা চালায়।

হামলায় পীরকে তার কক্ষ থেকে বের করে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর আস্তানায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে ১২ এপ্রিল দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরের পাঁচশত বিঘা কবরস্থানে শামীমের লাশ দাফন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। এতে চারজনের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন:

কুষ্টিয়ায় হত্যার শিকার সেই পীরের লাশ কবর থেকে তুলে 'দরবারে দাফন'

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা কারাগারে

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: এজাহারভুক্ত আসামি জামায়াত কর্মী গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ায় 'আস্তানায়' হামলা করে 'পীর'কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: 'পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করা হয়'

কুষ্টিয়ার মাজারে পীর হত্যা: মামলা করবে না পরিবার

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: 'জামায়াত-খেলাফতের নেতৃত্বে' হামলা চালায় দুই