১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদারীপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৬৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা ও যত্রতত্র জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণেই একটু বৃষ্টিতেই এমন নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jul 2025, 06:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:21 PM

মাদারীপুরে টানা ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বেশকিছু এলাকার সড়কের বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে।

অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। খেটে খাওয়া মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বৃষ্টির কারণে খোলেনি বেশিরভাগ দোকানপাট। দোকানে দোকানে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

মাদারীপুর আবহাওয়া কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, মাদারীপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৬৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এই বৃষ্টি থাকবে আরও দুদিন।

টানা বৃষ্টিতে মাদারীপুর শহরের পুরান বাজার, হামিদ আকন্দ সড়ক, ডা. অখিল বন্ধু সড়ক, শহীদ মানিক সড়ক, মন্টু ভুইয়া সড়ক, শহীদ বাচ্চু সড়ক ও পাবলিক লাইব্রেরি রোডসহ বেশকিছু সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

অধিকাংশ সড়কে পানি জমে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা ও যত্রতত্র জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণেই একটু বৃষ্টিতেই এমন নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়। ফলে দুর্ভোগের শেষ নেই যাত্রী, চালক ও পথচারীর।

এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মিতু মধু বলেন, “আমাদের এলাকার শহীদ মানিক সড়কটির ড্রেন ময়লা জমে আটকে গেছে। বলরামদেব মন্দিরের বড় পুকুরটি বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে। পুকুর থেকে পানি বের হওয়ার পাইপ ময়লা জমে আটকে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগাদা দিলেও তারা গ্রহণ না করায় এখন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কের ও এলাকার একই রকম অবস্থা দেখা গেছে।

মাদারীপুর পৌরসভার সচিব ফিরোজ আহমেদ ইলিয়াস বলেন, “মাদারীপুর পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়ে ১৪ বর্গ কিলোমিটারের মাদারীপুর পৌরসভা ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পায়।

“কর, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু সনদ ও রাজস্বসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছরই শত কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে পৌর কর্তৃপক্ষ।”

জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কাজ করছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”