ভারতের কারাগারে কুড়িগ্রামের খায়রুজ্জামানের মৃত্যু, ৩৮ দিন পর লাশ ফেরত
প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে খাইরুজ্জামান জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর দেশটির পুলিশের হাতে আটক হন।
অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে কারাগারে মৃত্যুর ৩৮ দিন পর দেশে ফিরেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার খাইরুজ্জামানের লাশ।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে লালমনিরহাটের চেংড়াবান্দা (বুড়িমারী) স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে তার মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান উলিপুর থানার ওসি সাইদ ইবনে সিদ্দীক।
মৃত ৪২ বছর বয়সী খাইরুজ্জামান উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙা গ্রামের প্রয়াত আব্দুল্লার ছেলে।
স্বজনরা জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে খাইরুজ্জামান জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দীর্ঘদিন কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে খাইরুজ্জামানের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর লাশ ফেরত আনতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
ওসি সাইদ বলেন, ৩৮ দিনের প্রচেষ্টার পর এদিন দুপুরে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বিজিবি, বিএসএফ, দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মৃতদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। রাতে নিজ গ্রাম কালুডাঙায় পারিবারিক কবরস্থানে খাইরুজ্জামানকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
খাইরুজ্জামানের ছোট ভাই খয়বর জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ভাই দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর নিখোঁজ ছিলেন। মৃত্যুর পর আমরা জানতে পারি তিনি কারাগারে ছিলেন। মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল ভাইয়ের মুখ দেখার। লাশ ফিরে পাওয়ায় আমরা সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ।"
বুড়িমারী ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহটি গ্রহণ করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। খাইরুজ্জামান স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।
