১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘হকার উচ্ছেদে’ গিয়ে পিটুনি খেয়ে চেয়ারম্যানের স্বগতোক্তি

এ ঘটনায় এক এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Mar 2024, 08:48 PM

Updated : 16 Mar 2024, 09:08 PM

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ করার সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

এ ঘটনায় এরই মধ্যে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বারেককে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার ভুলতা ফ্ল্যাইওভারের নিচে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে৷

মারধরের শিকার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আরিফুল হক ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনাটি জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এখন লিখিত অভিযোগ করবেন।’

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চেয়ারম্যান ও তার লোকজন এক আখের রস বিক্রেতাকে মারধর করলে হকারদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়৷”

ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল হক বলেন, “সড়ক দখল করে রাখা হকারদের সরাতে গেলে পুলিশ তাদের পক্ষ নিয়ে আমাকে লাঠিপেটা করেছে।”

ভিডিওতে দেখা গেছে, “ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল হককে লাঠি ও বাঁশ হাতে ঘিরে ধরে রেখেছেন স্থানীয় হকাররা। সেখানে লাঠি হাতে পোশাক পরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত রয়েছেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন হকার চেয়ারম্যানকে পেটাতে থাকেন। পুলিশও চেয়ারম্যানকে ধাক্কা দিয়ে কিল-ঘুষি মারেন এবং লাঠি দিয়ে কয়েকবার আঘাত করেন।”

স্থানীয়রা জানান, ভুলতা মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি হকারদের দখলে থাকে। এতে প্রায় সময় সড়কটিতে যানজট থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন জনসাধারণ। মাসখানেকও হয়নি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগে মহাসড়ক থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। এতে হকাররা ক্ষুব্ধ ছিলেন।

আরিফুল হক বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১৫-২০ দিন আগে মহাসড়ক হকারমুক্ত করা হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে আবারও হকাররা সড়ক দখল করে বসতে শুরু করেছে।

“শুক্রবার মহাসড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হকারদের দেখতে পাই। তখন এক আখের রস বিক্রেতাকে সড়ক ছেড়ে তার ভ্যানটি অন্যপাশে নিয়ে যেতে বলি। এতেই অন্য হকাররাও ক্ষেপে যান।

“ভুলতা ফাঁড়ির এসআই বারেকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত হয়ে হকারদের পক্ষ নিয়ে আমাকে মারধর করেন। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।”

রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুল হক আরও বলেন, “ভুলতা এলাকায় হকারদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। এর বড় একটা অংশ পায় পুলিশও। এ কারণে পুলিশ হকারদের পক্ষ নেয়।

“আমি তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। শুধু পুলিশ কেন, সবাই আমাকে চেনে। জনসাধারণের সুবিধার্থে কথা বলতে গিয়ে পুলিশ আমাকে প্রকাশ্যে যেভাবে পেটাল তাতে তো মনে হচ্ছে, এ যেন ‘পুলিশি রাষ্ট্র’।”

হকারদের কাছে থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা বলেন, “এক আখের রস বিক্রেতাকে মারধরের জেরে চেয়ারম্যানের লোকজন ও হকারের মধ্যে হট্টগোল হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

“এসআই বারেক সপ্তাহখানেক আগে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান করেছেন। তিনি চেয়ারম্যানকে চিনতেন না৷ এ ঘটনায় তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।”

ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।