Published : 09 May 2026, 09:42 PM
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির লাশ মাদারীপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার বিকালে উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
আসরের নামাজের পর চর গোবিন্দপুর উত্তর কান্দি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা হয়।

জানাজায় মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
বৃষ্টি মাদারীপুর ওই গ্রামের জহির উদ্দিন আকনের একমাত্র মেয়ে।
এদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। পরে বিমানবন্দরে তার বাবা-মা ও স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে লাশবাহী গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, “সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তাও যুক্তরাষ্ট্রে- এটা মেনে নেওয়া কঠিন। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।”
বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, “এই শোক আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আনন্দ নিয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু সে লাশ হয়ে ফিরল। আমরা এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পড়াশোনা করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল লিমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর পুলিশ বৃষ্টির পরিবারকে ফোনে জানায়, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশ থেকে ফ্লোরিডার একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লিমন ও বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক সাড়ে চার বছরের। তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত দুই শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে।
আরও পড়ুন
বৃষ্টির কফিন ঢাকায়, দাফন দাদা–দাদির কবরের পাশে
বৃষ্টি হত্যার বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র সচিব
মায়ের কান্না-আহাজারিতে ভারি পরিবেশ, বাড়ির পথে বৃষ্টির মরদেহ