Published : 04 Sep 2026, 09:03 PM
বিদ্যুৎ সংকট কমাতে চাঁদপুরে প্রায় আট হাজার একর জমিতে অ্যাগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় একই জমি থেকে বিদ্যুতের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
শুক্রবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক চক্ষু শিবিরে এসব কথা বলেন তিনি।
‘রাহেলা ওসমান সিকদার ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে এবং প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়।
চাঁদপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, এর মধ্যে প্রকল্পের জন্য জেলার কয়েকটি বড় জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে একটি বড় অ্যাগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার চেষ্টা চলছে। এ প্রকল্পে শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না, সৌর প্যানেলের নিচের জমিতে কৃষিকাজও করা যাবে। অর্থাৎ একই জমি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও অব্যাহত থাকবে।
বিডা চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত প্রকল্পের আয়তন সাত থেকে আট হাজার একর বা তারও বেশি হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আশা করছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।
উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, এতে শুধু চাঁদপুরের মানুষ নয়, দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষও সুফল পাবেন।
আশিক মাহমুদ বলেন, “যেকোনো কিছু বলা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত আপনাদের জন্য এটা করা যায়, তত দ্রুত করার।
“সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি চাঁদপুরে রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তুলতে ইপিজেড করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাস জমি খোঁজা হচ্ছে।”
মাস দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে গিয়ে ইপিজেড করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় কী পরিমাণ খাস জমি রয়েছে এবং সেখানে ইপিজেড করা সম্ভব কি-না, তা যাচাই করছে।
“নতুন করে জমি অধিগ্রহণ না করে সরকারি খাস জমি ব্যবহার করে ইপিজেড করার বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু জমির প্রাপ্যতা দেখলেই হবে না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধা, সড়ক যোগাযোগ, জমি উন্নয়নে সম্ভাব্য ব্যয় এবং উৎপাদিত পণ্য সহজে সড়ক বা নৌপথে চট্টগ্রামে নেওয়ার সুযোগ আছে কি-না, এসব বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।”
সরকার আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে; তাই নতুন করে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে সরকারি জমি ব্যবহার করে ইপিজেড করা যায় কি-না, তা দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ।
চক্ষু শিবিরের বিষয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহযোগিতা করা হবে এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সংগঠনের সদস্য অধ্যাপক তারিকুজ্জামান সোহেল শিকদার, সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক, অতিরিক্ত আইজিপি (টেলিকম) মো. মনিরুজ্জামান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন, প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর হারুন চৌধুরী, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি, ওসি কামরুল হাসান, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সদস্য খোকা শিকদার।