Published : 21 May 2026, 07:08 PM
খুলনার কয়রা উপজেলাসংলগ্ন পশ্চিম সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বনজীবী এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপকূলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এ ঘটনায় বন বিভাগের দুই কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাত পরিচয় নয় থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। একই ঘটনায় বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি মামলা করা হয়েছে।
নিহত আমিনুর রহমানের ভাতিজা অলিউল্যাহ বাদী হয়ে ঘটনার দুই দিন পর বুধবার কয়রা থানায় মামলাটি করেন বলে জানান একই থানার ওসি মো. শাহ আলম।
নিহত ৪৫ বছর বয়সি আমিনুর রহমান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার সকালে কয়রার আওতাধীন সুন্দরবনের পাতকোষ্টা বেশো খাল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
ওসি শাহ আলম বলেন, আমিনুরের স্বজনরা কয়রায় এসে মামলা করেছেন। মামলায় বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজাসহ অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার কয়েকদিন আগে আমিনুর বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান বলে জানান তিনি।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৩ মে ভাতিজা অলিউল্যাহসহ কয়েকজনকে নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আমিনুর। সোমবার সকাল ৭টার দিকে সুন্দরবনের পাতকোষ্টা এলাকার বেশো খালে মাছ ধরার সময় বন বিভাগের একটি টহল দল সেখানে পৌঁছায়।
“এ সময় আমিনুরের কাছে টাকা দাবি করেন বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন। টাকা দিতে রাজি না হলে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
“এক পর্যায়ে বনবিভাগের একজন রাইফেল দিয়ে আমিনুলকে গুলি করেন। গুলিটি তার শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি নৌকার ওপর লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর মারা যান।”
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন।
ওই দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না দাবি করে মোবারক বলেন, “আমার বিরুদ্ধে গুলি করার অভিযোগ সঠিক নয়। ঘটনাস্থলটি ছিল সুন্দরবনের প্রবেশ নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকা। ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় একটি ‘স্মার্ট টহল টিম’ গঠন করা হয়। সেখানে স্মার্ট টহল টিম দায়িত্ব পালন করছিলেন।”
“কয়েক দিন আগে টহল চালিয়ে ওই এলাকার ১১টি নৌকা জব্দ করা হয়। অধিকাংশই শ্যামনগরের সোরা গ্রামের। ওই এলাকার কিছু লোক সংঘবদ্ধভাবে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা এবং বনরক্ষীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে”, বলেন তিনি।
বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে বন বিভাগের শরবতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বন বিভাগের স্মার্ট টহল টিমের নেতা মোক্তাদির রহমান একটি মামলা করেন।
এ ব্যাপারে মোক্তাদির বলেন, বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
এ ছাড়া জেলে নিহতের ঘটনার দিন সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান।
তিনি বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জেলের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটিতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও অন্যটিতে খুলনা জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা আছেন।