রোববার বিকালে রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হয়েছে।
Published : 22 Sep 2024, 12:22 PM
খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে ‘পাহাড়ি-বাঙালি’ সংঘর্ষ ও চারজন নিহতের ঘটনার পর জেলাগুলোয় এখনো বন্ধ আছে যান চলাচল। খোলেনি দোকানপাট-মার্কেট কিংবা খোলা স্কুল-কলেজেও নেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
৪৬ ঘণ্টা পর রোববার দুপুর ১১টায় থেকে রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। খাগড়াছড়িতে শনিবারই তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ‘পাহাড়িদের ওপর হামলা, খুন ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের’ প্রতিবাদে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সকালেও খাগড়াছড়ি সাজেক সড়ক, পানছড়ি, রামগড় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধকারীরা বিক্ষোভ করেন।
খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটি, ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি জেলার দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙাসহ আন্তঃউপজেলাগুলোতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
তবে অবরোধকে কেন্দ্র করে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, “সহিংসতা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সড়ক সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে শুক্রবারের সহিংসতার পর দুইদিন পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি রাঙামাটি শহর।
পাহাড়ী শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার অবরোধের পাশপাশি পরিবহন শ্রমিকদের ‘অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ‘ অব্যাহত থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ফলে মোটরসাইকেলে করে বা পাঁয়ে হেঁটেই অফিসে যেতে দেখা গেছে সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের।
বনরূপার কাঁচাবাজারে একান্ত বাধ্য হয়ে আসা ক্রেতাদের উপস্থিতির কারণে কিছু মানুষের ভীড় চোখে পড়লেও সড়কে গণপরিবহন না থাকা স্তব্ধই বলা যায় পুরো শহরকে।
থমথমে রাঙামাটি-দীঘিনালা, শান্তি ফেরানোর আহ্বান
পাহাড়ে ‘দাঙ্গার’ শঙ্কা, শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর ‘বিশেষ অনুরোধ’
খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষে নিহত ৩, ১৪৪ ধারা জারি
শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ঠিক সময়ে পায়ে হেঁটে পৌঁছালেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি না থাকায় অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে আড্ডায় গল্পে। অফিসগুলোর চিত্রও ছিলো প্রায় একইরকম।
রাঙামাটি পৌরসভার জন্মনিবন্ধন শাখার দায়িত্বে থাকা ফিরোজ আল মাহমুদ সোহেল বলছেন, “এমনিতেই প্রতিদিনই আমাদের ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। চলমান সংকটের কারণে এবং গাড়ী চলাচল না করায় মানুষজন একেবারেই নেই।”
এদিকে প্রশাসনের এখনো কোনো সাড়া না পাওয়ায় পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেনি পরিবহন মালিক শ্রমিকরা।
অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলছেন, শুক্রবার ভাঙচুর করা গাড়ি ও চালকদের ক্ষতিপূরণ না দিলে এবং এই বিষয়ে প্রশাসনের কোন আশ্বাস না পেলে অবরোধ চলতে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদেরকে এখনো কেউ ডাকেনি কথা বলার জন্য।”
পাহাড়ে সহিংসতায় জড়িতদের শাস্তি উদাহরণ হয়ে থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পাহাড়ে সংযমের আহ্বান সরকারের, যাচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল
খাগড়াছড়িতে দুপক্ষের সংঘর্ষ থেকে দোকানে অগ্নিসংযোগ
অন্যদিকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে পুরো শহরকে। শহরের মোড়ে মোড়ে দেখা গেছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের অবস্থান।
সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক মোশাররফ হোসেন খান ও পুলিশ সুপার ড. ফরহাদ হোসেন শুক্রবারের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন।
প্রশাসক মোশারফ হোসেন খান জানান, শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এছাড়া বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেরে রাঙামাটিতেও মৃত্যুর খবর, ১৪৪ ধারা জারি
আইনশৃঙ্খলা অবনতি করার চেষ্টাকারীদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে
এদিকে, রাঙামাটি শহরবাসিকে কোনো গুজবে কান না দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল।
অবরোধের কারণে মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার পর্যটক।
এ বিষয়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরিন আক্তার জানান, অবরোধের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় পর্যটকদের কোনও গাড়ি শনিবার ছাড়া হয়নি। সাজেকে আটকা পর্যটকরা সবাই নিরাপদে ও সুস্থ আছেন। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”