Published : 15 Aug 2026, 09:34 PM
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সংসদ সদস্য এ ঘটনার জন্য জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও দলটি ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
শনিবার বিকালে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম জানান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্ধ্যায় উপজেলার চান্দাইকোনা ও ধানগড়া বাজার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, সম্প্রতি সরকারিভাবে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার-টিটিসির ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই চিঠিতে বলা হয়, টিটিসি চান্দাইকোনা এলাকায় স্থাপন করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে চান্দাইকোনা ও ধানগড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কারণ, উভয় পক্ষের লোকজন নিজ নিজ এলাকায় টিটিসি স্থাপনের দাবি জানান।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুই পক্ষই মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।
একপক্ষের দাবি রায়গঞ্জ উপজেলার প্রায় সব সরকারি কার্যালয় ধানগড়া এলাকায় রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক সুবিধার্থে সেখানেই টিটিসি ভবন করা উচিত।
আবার অপরপক্ষের দাবি, যেহেতু সবকিছু ধানগড়ায় রয়েছে, ফলে টিটিসি চান্দাইকোনা এলাকায় হওয়া উচিত।
এই মতবিরোধের মধ্যে টিটিসি ভবন নির্মাণ বিষয়ে বিকালে ধানগড়া এলাকায় বৈঠকে বসেন সংসদ সদস্য আয়নুল হক। বৈঠকের একপর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হট্টগোল শুরু হয়।
এ সময় সংসদ সদস্য আয়নুল হক নিজের গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার উদ্যোগ নেন। তখন পিছন থেকে গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির পিছনের গ্লাস ভেঙে যায়।
ঘটনার পর পরই সংসদ সদস্য আয়নুল হক তাৎক্ষণিক একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
তাতে তিনি অভিযোগ করেন, “টিটিসির ভবন স্থাপনের বিষয়ে আলোচনার সময় জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে হট্টগোল শুরু করেন। সেখান থেকে চলে আসার সময় হট্টগোলকারীরা গাড়িতে হামলা করেছে।”
এ বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন সংসদ সদস্য। পাশাপাশি সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্ধারিত স্থানেই টিটিসি ভবন স্থাপন করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, “সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কেউ মামলা করেনি বা কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।”
হামলার বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম মর্তুজা বলেন, “কোনো হামলার ঘটনাই ঘটেনি। এমপি সাহেব একটা ‘সিন ক্রিয়েট’ করেছেন। গাড়ির গ্লাস কিভাবে ভাঙলো সেটা তারাই বলতে পারবেন।”
তিনি বলেন, “টিটিসি স্থাপনের জন্য অনেক আগেই রায়গঞ্জ পৌরসভার কাছে দেড় একর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ আসার পর সংসদ সদস্য আইনুল হক সেটি চান্দাইকোনায় নিতে চাইছিলেন। কিন্তু ধানগড়ার লোকজন যারা বিএনপি করে তারাও এটা মেনে নিতে পারেননি।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তারা নিজেরাই নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর করে এর দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার বলেন, “রায়গঞ্জে এনসিপির কোনো কমিটি নেই, সেখানে সক্রিয় কোনো নেতাকর্মীও নেই। সংসদ সদস্য আয়নুল হক পরিকল্পিতভাবে এনসিপিকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন।”