Published : 28 Aug 2026, 04:01 PM
বিএনপি সরকার ধীরে ধীরে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি বলেছেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। যারা নিজেদেরকে মধ্যবিত্ত বলে, তারাও জানে তারা ঋণগ্রস্ত। তারা ঠিকমতো চলতে পারেন না।
“মানুষ ঠিকমত গ্যাস পায় না, বিদ্যুৎ থাকে না, কলকারখানা থেকে কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। বিএনপি সরকার ধীরে ধীরে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। তবে তারা এটা বিশ্বাস ও স্বীকার করতেও চায় না।”
শুক্রবার দুপুরে এনসিপি লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন তিনি।
এর আগে শহরের সোনারবাংলা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি থেকে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছেন সারজিস আলম।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তিমত্তা বৃদ্ধির জন্য কমিটি হওয়া খুবই জরুরি। এজন্য আমরা দেশের প্রত্যেকটি জেলায় সফর করছি। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে সাংগঠনিক কমিটি থাকবে।
“এবার স্থানীয় নির্বাচনে দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এনসিপি থেকে প্রার্থী ঘোষণা করতে চাই। এনসিপি থেকে একজন করে আমরা প্রাথমিকভাবে সমর্থন দেব। এই প্রসেসটার মধ্য দিয়ে বড় দল হিসেবে এনসিপির গড়ে ওঠা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার ধাপ সম্পূর্ণ হবে।”
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সারজিস বলেন, “সংসদটাকে ইতিমধ্যে তারা যেভাবে সরকার দলীয় সংসদ বানানোর চেষ্টা করছেন, এ অপচেষ্টা কখনো দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। বরং বিরোধীদলকে রিসিভ করতে শিখুন, তাদেরকে কথা বলতে দিন, আপনারা এ বিষয়গুলো সংশোধন করে কাজ করেন।
“আপনারা যদি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেন, আমরা সহযোগিতা করব। আর যদি আপনারা দেশ মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে যান, তাহলে আমরা জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে আপনাদের সঙ্গে জনগণকে নিয়ে আমাদের যে রাজনৈতিক লড়াই, সেই লড়াই হবে, ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপি সরকারের ছয় মাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার তিনটি সেক্টরে অগ্রাধিকার সেট করেছিল। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবে বলেছিল- জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা এ ধরনের সেক্টরগুলোতে। কিন্তু তারা সেখানে ফেল করেছেন।”
১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের দাবিগুলো আমরা তুলে ধরার জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে লংমার্চ নিয়ে যাচ্ছি।
“আমরা বিরোধীদল হয়ে শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবেও তাদের চোখে চোখ রেখে, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই তারা প্রত্যেকটি জায়গায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে মানুষের কাছে ধীরে ধীরে অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছে।”