Published : 11 Mar 2026, 10:02 PM
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকারকে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
সরকারের পূর্ব-প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুন সরকার গঠনের পরই আমরা একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। স্বাভাবিকভাবেই এ যুদ্ধ ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে হলেও দেশের অর্থনীতি, জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর একটা প্রভাব আছে।
“কাজেই নতুন সরকারের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের এ পরিস্থিতিতে আমাদের খুব বেশি সমস্যা হবে না।”
বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেন, “আমাদের শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য থেকেও ইউরোপ, জার্মানি, জাপান, কোরিয়াতে কীভাবে খুলতে পারি, দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারি, তা নিয়ে কাজ করছি।”
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ও পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, “আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি- হয়ত যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে না, হয়ত সমাপ্তির পথে যেতে পারে। যদিও এতে আমাদের কোনো হাত নাই, নিয়ন্ত্রণও নাই। আমাদের দেখতে হবে পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে।”
“তবে প্রধানমন্ত্রী এর মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন- কোনো কারণে পরিস্থিতির অবনতি হলে এবং আমাদের শ্রমিকরা যদি দেশে ফেরেন, তাহলে তাদের কর্মসংস্থান কিংবা ক্ষতিপূরণ কিংবা কল্যাণের জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার হয়, সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে”, যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমরা সরকারে আছি বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করছি সেটি নয়, এটি বাস্তবসম্মত। প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশকে একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চান তারেক রহমান।
“এ রকম চিন্তাশীল ও বাস্তবমুখী নেতা আমরা জিয়াউর রহমানকে পেয়েছি, এখন তার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দর্শন ও চিন্তায় সেই উদ্দীপনা আমরা দেখতে পাই।”
প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আগে চলে আসেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আশা করি, আমরা সরকারি দল, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ সরকারকে সহযোগিতা করলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বেশিদূর বা বেশিদিন প্রয়োজন হবে না, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা একটি ট্র্যাকে তুলতে পারব।
“বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সকলেই আমরা একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। এ সরকার কারও প্রতিপক্ষ নয়। এই সরকার আমাদের সকলের। এ সরকারকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য, পুনর্গঠনের জন্য, আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সফল করতে হবে। সেজন্য গত দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করেছি। তেমনিভাবে এই সরকারকেও সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হবে।”
বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জের অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।
নারায়ণগঞ্জের প্রাণ শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ ও দখল বন্ধ করে নাব্যতা ফেরাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণঅধিকার পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি নাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল সুজন উপস্থিত ছিলেন।