Published : 08 Dec 2023, 07:56 PM
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ চাকরিপ্রার্থীকে আটকে রেখে মারধর ও পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানাসহ ১৩ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে আরাফাত হোসেন নামে এক চাকরিপ্রার্থী বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লিফট অপারেটর পদে চাকরি পরীক্ষা দিতে ক্যাম্পাসে গেলে শহীদ মসিয়ূর রহমান হল নিবাসী সোহেল রানা (যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি) ছাড়াও বেলাল হোসেন, রাফি হাসান, রেদোয়ান হাসান, রাব্বি, শোয়েব, জিসান নামে অন্তত ১৫ জন চাকরিপ্রার্থীদের ধরে হলের ভেতরে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে আটকদের হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড, এসএস পাইপ, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরীক্ষা শেষে চোখ বেঁধে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে নিয়ে ছাড়েন।
সম্প্রতি লিফট অপারেটরের ১২টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৮ প্রার্থীকে পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ডাকা হয়। সকাল ১০টা থেকে চাকরিপ্রার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে খবর আসে, প্রার্থীদের মধ্য থেকে অন্তত ১৭ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ যাওয়ার খবরে বিকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর সন্ধ্যায় আটকে রাখা প্রার্থীদের মধ্য থেকে পাঁচজনের পরীক্ষা নেওয়া হয়। ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত ২৬ জন পরীক্ষা দিতে পেরেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক সংগ্রহ করতে গেলে সেটিও ছিনিয়ে নেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল রানা বলেন, “আমি বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। আমার কোনো লোকজন কাউকে আটকে রাখেনি। যেসব কক্ষের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আমার প্রতিপক্ষের এক নেতার অনুসারীরা থাকেন।”
এদিকে, আসামিদের আটকের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে পুলিশ শহীদ মসিয়ূর রহমান ছাত্রাবাসে অভিযানে যায়। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে সমবেত হয়ে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলে রেইট (অভিযান) দেওয়া হয়। কিন্তু কাউকে আটক করা হয়নি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “চাকরির পরীক্ষা দিতে এলে ১৭ প্রার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার লোকজন আটকে রাখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্র হলের যে কক্ষগুলোতে প্রার্থীদের আটকে রাখা হয়, সেসব কক্ষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা থাকে। ক্যাম্পাসে পুলিশ ডাকা হলে বিকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মামলা করার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটিও করা হবে।
আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ড বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। তারপরই মামলা ও তদন্ত কমিটি হবে।”
আরও পড়ুন:
যবিপ্রবিতে ১৭ চাকরি প্রার্থীকে ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে পরীক্ষা শেষে ছাড়ল ‘ছাত্রলীগ’