২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ যুবক

রূপগঞ্জের জায়েদুল ইসলাম বাবু এবং বাদল হোসেনের অনুসারী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jun 2025, 12:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:10 PM

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের দুপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সালাহ উদ্দিন কাদের জানান।

পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক জায়েদুল ইসলাম বাবু এবং ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেনের অনুসারী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে বাদলের ছোটভাই মামুন হোসেন (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাঝিপাড়া এলাকায় মামুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান রয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ আরও জানায়, বিকালে মাঝিপাড়া এলাকায় ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন খোকাকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। সেখানে যুবদল নেতা বাদলের অনুসারী কর্মী-সমর্থকরাও ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতাকে বাদলের বাড়ির দিকে নেওয়ার পথে হামলা চালায় সাবেক ছাত্রদল নেতা জায়েদুল ইসলাম বাবু ও তার লোকজন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় সাবেক ছাত্রদল নেতা বাবু ও সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। তখন ছোটভাই মামুন গুলিবিদ্ধ হন বলে অভিযোগ করেন যুবদল নেতা বাদল হোসেন।

তিনি বলেন, “বাবু ছাত্রলীগ নেতার পক্ষ নিয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে ফায়ার করে। আমার ছোটভাইটার কানে গুলি লেগেছে। তারে নিয়া আমরা হাসপাতালে। সে রাস্তা দিয়া যাচ্ছিল, তখন বাবু ও তার লোকজন এলাকাবাসীর উপর গুলি চালায়।”

সাবেক ছাত্রদল নেতা জায়েদুল ইসলাম বাবু উপজেলা যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমানের ভাতিজা।

যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করেন সাবেক এ ছাত্রদল নেতা। তিনি বলেন, “আমি শুনেছি ছাত্রলীগের খোকনকে লোকজন ধরছিল। সেখানে গোলাগুলি হইছে। কিন্তু আমি সেখানে ছিলাম না। আমি বাসায় ছিলাম।”

স্থানীয়রা জানান, রূপগঞ্জে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। একটি অংশের নেতৃত্ব দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এবং অপরটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। দিপু ভূঁইয়ার অনুসারী বাদল হোসেনের সঙ্গে কাজী মনিরের অনুসারী বাবুর স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে পুরনো দ্বন্দ্ব রয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষের পর সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সালাহ উদ্দিন কাদের।

তিনি বলেন, “সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় আহতের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।