গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Published : 25 Jul 2024, 02:27 AM
কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তিনটি মামলা করা হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পুলিশ বাদি হয়ে করা এসব মামলায় এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ২২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাদেমুল বাহার।
তিনি আরও জানান, এসব মামলায় বুধবার বিকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৬ জনকে। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩ জন। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জড়িতদের ধরতে প্রতিদিনই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে গ্রেপ্তারদের বেশিরভাগই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষার্থীও গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও আসামিদের দলীয় পরিচয় নিয়ে জেলা ও থানা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর ১৮ জুলাই পর্যন্ত বেশ কয়েকদিন কুমিল্লার কোটবাড়ি নন্দনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এর মধ্যে ১৫, ১৬ ও ১৮ জুলাই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষসহ ব্যাপক সহিংসতা হয়।
সবশেষ ১৮ জুলাই সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে চলে ওই সংঘর্ষে কোটবাড়ি এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শিক্ষার্থী, পুলিশ, সাংবাদিক, বিজিবিসহ আহতদের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যায়।
ওইদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৬০০টি গুলি ছোঁড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এছাড়া অনবরত কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।
শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশ ও বিজিবির তিনটি গাড়ি।
এই সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে ১৬ জুলাই ভাঙচুর করা হয় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের একটি গাড়ি। এদিনের সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৭০০ থেকে ৮০০ জনের মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া ১৫ জুলাইয়ে সহিংসতার অভিযোগে সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, শেষ তিনদিনের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের কোনো বাধা দেয়নি।
কিন্তু শেষদিকে একদল দুষ্কৃতকারী শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢুকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করে। যার কারণে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হয় পুলিশ সদস্যরা। যারাই ঘটনায় জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “নাশকতামূলক কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা আসামিকে আসামি হিসেবেই দেখছি; এক্ষেত্রে কারো দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় দেখা হচ্ছে না। সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”