Published : 25 Feb 2026, 05:17 PM
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের উপস্থিতিতে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়কে বসে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন হান্নান মাসউদ।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুইঘণ্টা চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম।
সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ, দোকানপাট, মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও বিএনপির একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২১ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপি কর্মী আকবর, হেলাল, রিয়াদ, জাহের, হক সাহেব, লুবনা আক্তার।
এর আগে সকালে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে যান নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।
এ সময় তিনি এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, হান্নান মাসউদের গাড়ি বহর ফেরার পথে প্রকল্প বাজারে বিএনপি ও এনসিপি কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়কে বসে পড়ে অবস্থান নেন হান্নান মাসউদ। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে কিছুক্ষণ পর এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।
আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, “আমি প্রকল্প বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখে আসার পথে স্থানীয় বেলাল ডাকাতের নেতৃত্বে আমার গাড়িবহরের পেছন থেকে হামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “বেলাল ডাকাত আগে আওয়ামী লীগ ছিলো এখন সে বিএনপি করে।”
এসব সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রকল্পে হান্নান মাসউদ উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। পরে তার দলের নেতাকর্মীরা বাজারে উঠে প্রথমে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে।
পরে তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এসময় হান্নানের লোকজন স্থানীয়দের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
মাহবুবুর আরও বলেন, “এ সময় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী প্রতিরোধের চেষ্টা করে। পরে হান্নানের লোকজনের দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীসহ অন্তত ১২ জনকে আহত করে।”
হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”