১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লায় পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রীর

এদিকে জুয়েল বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে একটি পক্ষ দাবি করলেও অপরপক্ষ বলছে, তিনি যুবলীগের নেতা ছিলেন।

কুমিল্লায় পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রীর
কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশ হেফাজতে শেখ জুয়েলের মৃত্যু হয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jun 2025, 06:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:13 PM

মাদক অভিযানে গ্রেপ্তার কুমিল্লার মুরাদনগর থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার ‘নির্যাতনের’ অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।   

ওই ব্যবসায়ীর নাম শেখ জুয়েল (৪৫); তিনি উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামের শেখ বাড়ির প্রয়াত শেখ গোলাম সারোয়ারের ছেলে। তিনি ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা করতেন। 

পুলিশ দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার বাঙ্গরা এলাকা থেকে জুয়েলসহ পাঁচজনকে মাদক সেবনের সময় গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। 

থানায় নেওয়ার পর শেখ জুয়েল অসুস্থবোধ করলে তাকে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এদিকে জুয়েল বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে একটি পক্ষ দাবি করলেও অপরপক্ষ বলছে, তিনি যুবলীগের ‘নেতা’ ছিলেন।  

শেখ জুয়েলের চাচাতো ভাই ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ সফিকুল ইসলাম বলেন, বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই আল-আমিনের নেতৃত্বে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এসআই জানান, জুয়েলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আটক করার পর শেখ জুয়েলের সঙ্গে থানায় গিয়ে দেখা ও কথা বলেন স্ত্রী শিল্পী বেগম। তিনি বলছিলেন, “থানায় তিনি সুস্থ ছিলেন। আমাকে বললেন, ‘আমি কিছু করিনি, আমাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা কর।’ এরপরই খবর পাই তিনি মারা গেছেন। একজন সুস্থ মানুষ এভাবে মারা যেতে পারেন না। তাকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে।”

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রাত ৯টায় জুয়েলকে হাসপাতাল আনা হয়। তাকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।”

এদিকে শেখ জুয়েলের মৃত্যুর প্রতিবাদে রাতে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, “শেখ জুয়েল একজন চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন। তবে থানা পুলিশের প্রতি যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেটি ঠিক নয়। আমাদের থানায় প্রতিটি সিসি ক্যামেরা সংরক্ষণ করা হয়েছে সেটি দেখলেই বলা যাবে। জুয়েলের হৃদরোগের হিস্ট্রিও রয়েছে।”

তবে জুয়েলের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা বা অভিযোগ নেই বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। 

এদিকে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন দাবি করেছেন, শেখ জুয়েল বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার ভাই বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। 

জুয়েলের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। রাতে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেনের (কায়কোবাদ) ছোট ভাই কাজী শাহ আরফিন এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “বাঙ্গরা থানা পুলিশের হেফাজতে বিএনপির একজন কর্মী নিহত হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে কোনো মামলাই ছিল না। একটি স্বাধীন দেশের থানায় বিনা অপরাধে এভাবে একজন নাগরিকের মৃত্যু শুধু অমানবিকই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অপব্যবহার ও দমননীতির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। 

“ন্যায়বিচারের নামে যদি মানুষ হত্যা হয়, তাহলে সেটাকে বিচার নয়, বর্বরতা বলা হয়। এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অপরদিকে মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদুল আলম শাহেদ ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ হেফাজতে যুবদল নেতা রুবেলের বড় ভাই বাঙ্গুরা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জুয়েলের মৃত্যু। ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ী ও বাংলা ইউনিয়ন যুবলীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ জুয়েল পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। 

“নিহত জুয়েলের স্ত্রী বারবার চেষ্টা করেও তাকে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়। তিনি দাবি করেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় কোনো রকমের মামলা ছিল না।  তার পরেও পুলিশ নির্যাতনের জুয়েলের মৃত্যু হয়েছে।”