১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অন্তঃসত্ত্বাসহ ৬ ভারতীয়ের জামিন, তবে এখনই ফিরতে পারছেন না দেশে

পশ্চিমবঙ্গের এ বাসিন্দারা দিল্লীতে কাগজ কুড়ানোর কাজ করতেন। সেখানে পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশইন করে।

অন্তঃসত্ত্বাসহ ৬ ভারতীয়ের জামিন, তবে এখনই ফিরতে পারছেন না দেশে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে জামিনে মুক্ত সন্তান সম্ভবা সোনালীসহ ভারতীয় ছয় নাগরিক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Dec 2025, 09:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ছয় ভারতীয় নাগরিককে জামিন দিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালত।

সোমবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম তাদের জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু। 

গত ২০ অগাস্ট ওই ছয় ভারতীয় নাগরিককে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আলীনগর মহল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ অভিযোগে মামলা করার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তারা হলেন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার পাইকড় থানার দানিশ শেখ (২৮), তার স্ত্রী সোনালি বিবি (২৬), তাদের সন্তান সাব্বির শেখ (৮) এবং সুইটি বিবি (৩৩) ও তার দুই সন্তান, মো. কুরবান শেখ (১৬) ও মো. ইমাম শেখ (৬)।

আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু বলেন, নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন যে কোনো সময় সন্তানের জন্ম দিতে পারেন। এ বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হলে মানবিক কারণে এ মামলায় সোনালীসহ বাকী পাঁচজনকে তাদের আত্মীয় স্থানীয় ফারুক হোসেনের জিম্মায় জামিন দেওয়া হয়।

জিম্মাদার ফারুক হোসেন পৌরসভার নয়াগোলা মহল্লার বাসিন্দা। 

আইনজীবী আরও বলেন, “আদালত জামিন দিলেও নিয়মিত হাজিরার শর্ত থাকায় তারা আপাতত ভারতে ফিরে যেতে পারবেন না “ 

৩ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানির দিন রয়েছে। ওই দিন আসামিদেরকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এ মামলার তদারকি করতে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য সামিরুল ইসলামের প্রতিনিধি মফিজুল শেখ। 

তিনি বলেন, “পাইকড় থানার এই বাসিন্দারা দিল্লীতে কাগজ কুড়ানোর কাজ করতেন। দিল্লী পুলিশ তাদেরকে আটক করে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশইন করে। এ ঘটনা ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয় এবং আলোচনার জন্ম দেয়।”

তিনি বলেন, এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবার মামলা করলে কলকাতা হাইকোর্ট গত ২৬ সেপ্টেম্বর ছয় ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরাতে চার সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়। তারপরও দেশে না ফেরায় পরে হাইকোর্টের এই রায় চ্যালেঞ্জ করে পরিবার দুটি ভারতবর্ষের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে সোনালী খাতুন ও তার ছেলেকে দ্রুত দেশে ফেরানোর কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট। 

মফিজুল শেখ বলেন, “রাজ্যসভার সদস্য সামিরুল ইসলামের পক্ষে ভুক্তভোগী এ পরিবার দুটির পাশে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশে আইনজীবী নিয়োগ করে তাদের জামিন আবেদন করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের আদালত এ ব্যাপারে যে রায় দিবেন সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব। তবে সোনালী খাতুনের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় তাদের দ্রুত দেশে ফেরাতে দুদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।”

মামলায় জামিন পাওয়ায় উভয় দেশের সরকার ও আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সোনালি খাতুন, সুইটি বেগম ও দানিশ শেখ। তবে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ দেশে ফিরতে চান তারা।