Published : 30 Apr 2026, 06:30 PM
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী থেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি দুটি নৌকাসহ বাংলাদেশি সাত জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সাবরাং নয়াপাড়া এবং শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকারের সময় তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন- নয়াপাড়ার এলাকার আব্দুর রহমান, আবদুল মতলব, গুরা মিয়া, মো. হাসান এবং শাহপরীর দ্বীপ ডেইলপাড়া এলাকার আহমদ আলী, নুরুল আবছার ও আবদুর রহিম।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, “সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন আমার এলাকার চার জেলে। তাদের আটক করে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মির সদস্যরা। আরাকান আর্মির কারণে নাফ নদীতে মাছ শিকারে যাওয়া অসম্ভব হয়েছে পড়েছে।
“সাগর থেকে প্রায় সময় জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে নৌকার মালিকদের মাঝে দুর্দিন নেমে আসবে। তাই এ ঘটনা বন্ধে সরকারের সহতায় কামনা করছি।”
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলে আহমদ আলীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “নাফ নদী থেকে মাছ ধরার সময় আমার স্বামী ও দুই ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মির। দুপুরে মাছ শিকার করে বাড়িতে ফেরার কথা। কিন্তু অন্য জেলেদের মাধ্যমে জানতে পারি তাদের ধরে নিয়ে গেছে।
“আমরা খুবই গরিব। তারা না ফিরলে আমাদের পরিবার অনাহারে থাকবে। তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে সরকারে সহতায় কামনা করছি।”
নৌকার মালিক আব্দু শুক্কুর বলেন, “আমার নৌকায় চারজন জেলে মাছ ধরতে গিয়েছিল। ফেরার পথে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা সবাই দরিদ্র জেলে। দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট বিওপি কমান্ডারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রলার মালিক ও বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, গত ১১ মাসে আরাকান আর্মি নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ৩২৮ জন জেলেকে অপহরণ করেছে। বিজিবির প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জন জেলেসহ ২৭টি ট্রলার ফেরত আনা সম্ভব হলেও আরও ৩০টি ট্রলার ও ১৯০ জন জেলে রাখাইন রাজ্যের কারাগারে আটকা রয়েছেন।