Published : 14 Jun 2025, 01:51 PM
যমুনা সেতুর দুই পাশে প্রায় ২৫ কিলোমিটার জুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করা মানুষ।
এর মধ্যে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে যানজট মহাসড়কের কড্ডা ও ঝাঐল ওভারব্রিজ পেরিয়ে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে গেছে অন্যদিকে পূর্ব প্রান্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে ১৪ কিলোমিটার এলাকায়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে সেতুর ওপরে এবং মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব যানবাহন সরাতে গিয়ে বেগ পেতে হয়েছে।
“যে কারণে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের লম্বা লাইন পড়েছে। এছাড়াও কর্মমুখী মানুষ ঢাকায় রওনা হওয়ায় মহাসড়কে কয়েকগুণ বেশি যানবাহনের চাপ বেড়েছে।”
চালক ও যাত্রীরা জানান, শুক্রবার রাত থেকেই সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বাসের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, পিকআপ ও খোলা ট্রাকেও মানুষ ঢাকার পথে ছুটছে।
পাশাপাশি কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেতুর টোল আদায়ে ধীরগতি এ সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে যাত্রী ও চালকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নারী ও শিশুরা বিপাকে পড়েছেন বেশি। সময় যত গড়াচ্ছে যানজট তত তীব্র হচ্ছে।
ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ রয়েছে। যমুনা সেতুতে টোল আদায়ে ধীরগতি থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি।
এদিকে যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, শনিবার ভোর সকাল থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে এলেঙ্গা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
যমুনা সেতুর কাছে সড়কে আটকে থাকা যাত্রী আশুলিয়ার আরিফ হোসেন বলেন, “আগে কখনও ঈদ শেষে ফেরার পথে যানজটে পড়তে হয়নি। এবারই প্রথম। রোদ না থাকলেও ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”
ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, “যানবাহনের চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।”
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মোহাম্মদ শরীফ বলেন, “অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতুর সিরাজগঞ্জ অংশেও যানজট ছিল। যার কারণে টাঙ্গাইলের অংশেও যানবাহনের জটলা বাঁধে। ”
যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এসব বিষয়ে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।