Published : 23 Aug 2026, 03:13 PM
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার দুপুরে রংপুর পুলিশ হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল মাবুদ মিয়া এ কথা জানান।
আটক দুজন হলেন- সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। তাদের বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিআইজি আব্দুল মাবুদ মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে রোববার ভোরে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুঁতবাগানে লুকিয়ে ছিল। পরে তুঁতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে বসে আটকরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলেও আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
“স্থানীয় কয়েকজন যুবক এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে তারা ওই বাড়িতে ঢুকে চারজনকে হত্যা করে থাকতে পারে।” সংবাদ সম্মেলনে বলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল মাবুদ মিয়া।
এর আগে শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।
শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা থেকে পুলিশ গিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
দোতলা বাড়িটির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়ি থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। আর ছেলে প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ বলছে, লাশ উদ্ধারের সময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া আসবাবপত্র ও টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা পাওয়া গেছে। দুই থেকে তিন দিন আগে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।
ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তদন্তে কাজ করছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকগুলো সংস্থা কাজ করছে।”
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। তবে বাড়িঘর যেভাবে তছনছ করা হয়েছে, তাতে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”