হাসপাতালের চিকিৎসা ছেড়ে গেলেন ওঝার কাছে, ফেরার পথে মৃত্যু
হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাপে কাটা ওই নারীর অ্যান্টিভেনমের ডোজ শেষ না হতেই তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
কুমিল্লার হোমনায় বিষধর সাপের কামড় খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার মধ্যেই ওঝার কাছে গিয়ে ফেরার পথে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ফিরিয়ে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয় বলে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রাশেদুল ইসলাম জানান।
নিহত তানজিনা আক্তার (২২) হোমনা উপজেলার গোয়ারি ভাঙ্গা এলাকার আলী আহমেদের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানা গেছে, সাপে কাটা তানজিনার অ্যান্টিভেনমের ডোজ শেষ না হতেই তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আবারও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ওই নারীর স্বামী আলী আহমেদ জানান, সকাল ৭টার দিকে তানজিনার বাম পায়ের আঙুলে একটি সাপ কামড় দেয়। তাকাতেই কালো রঙের একটি সাপকে চলে যেতে দেখেন তানজিনা। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, “সেখান থেকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে তিনি আমার স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তানজিনার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।”
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রাশেদুল ইসলাম বলেন, “সাপে কাটা ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া শুরু হয়। এ সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে বলা হয়। কিন্তু ডোজ চলার মাঝামাঝি সময়ে তাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে পারিনি। পরে যখন আবার ওই নারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে, ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন। যে সাপটি তাকে কেটেছে সেটি বিষধর ছিল; কিন্তু সাপটি কোন প্রজাতির সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
হোমনা থানার ওসি মো. জয়নাল আবেদিন জানান, সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য স্বজনদের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
