Published : 08 May 2026, 05:31 PM
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে ২৮ এপ্রিল থেকে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু করার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করে। আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার পথ আরও সুগম হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ এই প্রযুক্তিটি সরবরাহ করেছে। প্রথম ইউনিটের জন্য স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ মোট ২২টি সাব-সিস্টেম স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই সিস্টেমের প্রধান কাজ হবে বিদ্যুৎ ইউনিটের কমিশনিং এবং নিয়মিত পরিচালনাকালে যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া রেডিয়েশন মনিটরিং এবং সার্বিক প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
রোসাটমের অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বিশেষত্ব বিবেচনা করে এই সিস্টেমে বেশ কিছু উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রথমবারের মত আমরা এখানে কমপ্যাক্ট বেঞ্চ-টাইপ নকশা ব্যবহার করেছি; যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম সরবরাহ ও কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে।”
প্রকল্পের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এ প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ ধরনের চুল্লি স্থাপন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা হবে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
তৃতীয় প্লাস প্রজন্মের এই চুল্লির নকশাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে তৈরি হরা হয়েছে।
বর্তমানে এই প্রযুক্তির ছয়টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে সফলভাবে চালু রয়েছে। এ ছাড়া মিশর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক এবং চীনেও একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।
ফুয়েল লোডিং এবং আনুষঙ্গিক পরীক্ষা শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ বা অগাস্ট মাসের দিকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ কেন্দ্র থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে দুটি ইউনিট থেকে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
পুরনো খবর-
রূপপুরে যেভাবে হবে 'ফুয়েল লোডিং'
জ্বালানি লোডিংয়ে প্রস্তুত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, এপ্রিলের শেষে উদ্বোধনের আশা
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং ২৮ এপ্রিল, উৎপাদন শুরু অগাস্টের মধ্যে
পদ্মাপাড়ের রূপপুরে উৎসবের আমেজ, নিরাপত্তা জোরদার
রূপপুরে 'ফুয়েল লোডিং' শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুতের আরো কাছে বাংলাদেশ