Published : 28 Apr 2026, 02:05 PM
পদ্মাপাড়ের শান্ত জনপদ ঈশ্বরদীর রূপপুর। কিন্তু এখানে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরুর খবরে তাই এখন বিশ্ববাসীর নজরে। আর স্থানীয়দের কাছে এটি কেবল একটি প্রকল্পের অগ্রগতি নয়, বরং এক নতুন যুগের সূচনা।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পথ তৈরি হবে।
এই কার্যক্রম ঘিরে পুরো এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। জ্বালানি লোডিংয়ের খবরে উল্লসিত এলাকাবাসী মনে করছেন, কেন্দ্রটি চালু হলে দেশ কেবল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের মতে, এর মধ্যেই এ প্রকল্প ঈশ্বরদী তথা উত্তরাঞ্চলের চেহারা বদলে দিয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে রাস্তাঘাট, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা জীবনযাত্রার মানকে বদলে দিয়েছে।
স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “একটা সময় এ এলাকা ছিল জনশূন্য। আজ এখানে বড় বড় আবাসন তৈরি হয়েছে, বিদেশি নাগরিকরা বসবাস করছেন, এটা ভাবতেই অবাক লাগে।
তিনি বলেন, “ইউরেনিয়াম লোডিং হওয়ার মানে হলো আমরা এখন সত্যিকারের পারমাণবিক শক্তিধর দেশের গর্বিত অংশ হতে যাচ্ছি। এবারে বিদ্যুতের যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে আমি বা আমরা নয় বরং পুরো দেশ উপকৃত হবে।”
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক পিয়াস হোসেন বলেন, “আমরা শুনেছি, এ প্রকল্পে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে দুর্ঘটনার আশংকা যেমন আছে, তেমনি অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধিরও হাতছানি রয়েছে। ইতিমধ্যেই ব্যাবসা বাণিজ্য গতি পেয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের কারণে এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
“জ্বালানি লোডিং ও কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আরও নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে বলে আমাদের বিশ্বাস”, যোগ করেন তিনি।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে শুরুতে কিছু মানুষের মনে দ্বিধা থাকলেও, প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড দেখে সেই শঙ্কা এখন কাটতে শুরু করেছে।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা জেনেছি এটি রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও আইএইএ (IAEA)-এর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে তৈরি। জ্বালানি লোডিংয়ের সময় বৈজ্ঞানিক সতর্কতা দেখে আমরা আশ্বস্ত যে এটি আমাদের জন্য নিরাপদ।”
স্থানীয় তরুণরাও আশা করছেন, “এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পে কাজ করার মাধ্যমে তারা বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
রূপপুরের আকাশে এখন শুধু ইউরেনিয়ামের আলো নয়, বরং এক গর্বিত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, রূপপুর এখন আর কেবল একটি নাম নয়, এটি উন্নয়নের একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমাদের রূপপুর এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত।’
এদিকে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং উপলক্ষে প্রকল্পের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান রুপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুব আলম।
তিনি বলেন, “আমরা দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রকল্প ও কপিআই এরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।”